প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নারীর শরীর, ওজন ও সৌন্দর্য নিয়ে সমাজের প্রত্যাশার যেন শেষ নেই। কখনো ওজন বেশি হলে কটাক্ষের শিকার হতে হয়, আবার রোগা হয়ে গেলেও নানা মন্তব্যের মুখোমুখি হতে হয়। সম্প্রতি মা হওয়ার পর শারীরিক পরিবর্তনের কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার শিকার হওয়া ক্যাটরিনা কাইফের পাশে দাঁড়িয়ে বলিউড অভিনেত্রী রাধিকা মদন তাঁর অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন।
রাধিকা জানান, অভিনয়ের প্রয়োজনে ‘পটাখা’ সিনেমার জন্য তাঁকে প্রায় ১৫ কেজি ওজন বাড়াতে হয়েছিল। পরে ‘শিদ্দত’ ও ‘আংরেজি মিডিয়াম’ সিনেমায় অভিনয়ের সময় সেই ওজন কমানোর চেষ্টা করেন তিনি। তখন তাঁর শরীরের গঠন নিয়ে কটাক্ষ করে প্রশ্ন করা হয়েছিল, এত মোটা হলে কীভাবে নায়িকার চরিত্রে অভিনয় করবেন! পরপর সিনেমার শুটিংয়ের পাশাপাশি দ্রুত ওজন কমানোর চেষ্টা করতে গিয়ে একপর্যায়ে অতিরিক্ত রোগা হয়ে পড়েন অভিনেত্রী। শারীরিক স্বাস্থ্যের অবনতি হওয়ায় শেষ পর্যন্ত কাজ থেকে বিরতিও নিতে হয় তাঁকে।
নিজের এই অভিজ্ঞতা থেকে রাধিকা উপলব্ধি করেন, অন্যের প্রত্যাশা পূরণ করতে গিয়ে শরীরের গঠন পরিবর্তন করলেও সমালোচনা থেকে মুক্তি পাওয়া যায় না। আগে ওজন বেশি থাকায় তাঁকে কথা শুনতে হয়েছে, আবার ওজন কমানোর পরও অতিরিক্ত রোগা হয়ে যাওয়ার জন্য সমালোচিত হয়েছেন। তাই এখন তিনি নির্দিষ্ট কোনো শারীরিক গঠন অর্জনের চেয়ে সুস্থ থাকার বিষয়টিকে বেশি গুরুত্ব দেন।
অভিনেত্রীর মতে, নারীদের সৌন্দর্য কেমন হওয়া উচিত, সে বিষয়ে সমাজ ছোটবেলা থেকেই একটি নির্দিষ্ট ধারণা তৈরি করে দেয়। প্রচলিত সৌন্দর্যের মানদণ্ডের সঙ্গে নিজেকে মেলাতে গিয়ে অনেক কিশোরী আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলে। ভ্রুর আকৃতি কিংবা মুখের স্বাভাবিক লোমের মতো বিষয় নিয়ে তৈরি হয় হীনম্মন্যতা। অথচ সৌন্দর্যকে কোনো একটি নির্দিষ্ট চেহারা বা শারীরিক গঠনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যায় না।
নিজের শৈশবের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে রাধিকা জানান, ছোটবেলায় তাঁরও ঘন ভ্রু ও মুখে লোম ছিল। তবে পরিবারের ইতিবাচক মনোভাব তাঁকে নিজের চেহারাকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করতে সাহায্য করেছে। অন্যের প্রশংসা বা স্বীকৃতির ওপর নির্ভর না করে নিজেকে ভালোবাসার গুরুত্বও সেখান থেকেই শিখেছেন তিনি। রাধিকার মতে, নিজেকে গ্রহণ করার পথ সহজ না হলেও নিজের শরীর ও স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের প্রতি সম্মান দেখানোই সেই যাত্রার প্রথম ধাপ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন