প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ছবি-সংবলিত একটি পোস্টারকে কেন্দ্র করে আইনি জটিলতায় পড়েছিলেন অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। বর্তমানে সেই মামলায় আপাতত তিনি স্বস্তি লাভ করেছেন।
কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে এখনই কোনো ধরনের কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের নির্দেশে শ্রীলেখা এই স্বস্তি পান। তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একাধিক এফআইআর খারিজের আবেদনও আদালতে জানানো হয়েছে।
আদালতের নির্দেশ অনুসারে, আগামী ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত শ্রীলেখার বিরুদ্ধে পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নিতে পারবে না।
মামলাটির পরবর্তী শুনানি আগামী ১৪ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। এই সময়ে মামলার সঙ্গে যুক্ত সকল পক্ষকে হলফনামা জমা দিতে হবে।
তবে শুনানির সময় পোস্টারটি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। তিনি মন্তব্য করেন, ‘কেন এমন পোস্ট করেন মামলাকারী? এটা কোনো কার্টুন হতে পারে না।
এটা সত্যিই লজ্জাজনক পোস্টার। একজন বিচক্ষণ নাগরিক হিসেবে এমন পোস্ট ফেসবুকে করেন কিভাবে! এই পোস্ট সত্যিই লজ্জাজনক বা কষ্টদায়ক। তিনি একজন অভিনেত্রী, ধরে নেওয়া হবে তিনি সংবেদনশীল, তার পরেও এমন পোস্ট কেন? এটা কার্টুন নয়। বিচক্ষণ সংবেদনশীল নাগরিক হিসেবে এমন পোস্ট কেন?’
শ্রীলেখার পক্ষে আদালতে প্রশ্ন করেন আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য ও শামিম আহমেদ। তাঁরা জানান, অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে মোট ১৬টি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
তাদের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট পোস্টারটি রুচিহীন বা আপত্তিকর হতে পারে, কিন্তু সেটির ভিত্তিতে ফৌজদারি মামলা চালানোর মতো কোনো অপরাধ হয়েছে কি না, সেটিই মূল প্রশ্ন।
শুনানির সময় পোস্টারটি নিয়েও আদালত প্রশ্ন তোলেন। বিচারপতি জানতে চান, ‘এমন পোস্টার কীভাবে প্রকাশ্যে প্রদর্শন করা যায়?’ তবে শুনানি শেষে আপাতত শ্রীলেখার বিরুদ্ধে কোনো কড়া পদক্ষেপ না নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত ২৪ জুলাই। নিট-এর প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদ এবং তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে কলকাতার রাস্তায় প্রতিবাদে বহু মানুষ শামিল হয়েছিলেন। সেই আন্দোলনে শ্রীলেখাও যোগ দিয়েছিলেন। অভিযোগ ওঠে, তাঁর হাতে থাকা একটি পোস্টারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কুরুচিকর ছবি ছিল।
এরপর আনন্দপুর থানায় বিজেপি নেত্রী কেয়া ঘোষ সহ আরো অনেকে বিভিন্ন থানায় অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানাসহ একাধিক জায়গাতেও অভিযোগ জমা পড়েছে বলে জানা যায়। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩৫২, ৩৫৩ ও ৩৫৬ ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে বলে খবর।
অভিযোগের পর শ্রীলেখা দাবি করেছিলেন, তিনি পোস্টারটি ভালো করে দেখতে পাননি। সেদিন তাঁর সঙ্গে চশমা না থাকায় পোস্টারে কী ছবি রয়েছে, তা স্পষ্টভাবে বুঝতে পারেননি বলেও জানান তিনি।
তাঁর দাবি, প্রতিবাদের সময় পুলিশ লাঠিচার্জ করছিল এবং সেই পরিস্থিতিতে কোনোমতে ছবিটি তুলেছিলেন। পোস্টারটি ঘুরিয়ে দেখার সুযোগও তাঁর হয়নি।
আদালতের এদিনের নির্দেশের পর শ্রীলেখা বলেন, ‘এটাই আশা করেছিলাম আদালতের কাছ থেকে। আমার আইনজীবীদের ধন্যবাদ।’
অন্যদিকে, রাজ্যের পক্ষে অ্যাডিশনাল অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার আবেদনটির বিরোধিতা করেন। তাঁর বক্তব্য, পোস্টারটি নিঃসন্দেহে আপত্তিকর এবং অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন