প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের প্রধান প্রবেশদ্বার চট্টগ্রাম বন্দর থেকে রেলপথে কনটেইনার পরিবহন ধারাবাহিকভাবে কমতে দেখা যাচ্ছে। গত দুই অর্থবছরে রেলপথে কনটেইনার পরিবহন প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমে গেছে। যদিও দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর থেকে পণ্য পরিবহনে রেলওয়ের অংশ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তথাপি পরিসংখ্যানে উল্টো চিত্র ফুটে উঠছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষ ও রেলওয়ে সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে রেলপথে ৮০ হাজার ৭১৯টি কনটেইনার পরিবহন করা হয়েছে। পরবর্তী অর্থবছরে, ২০২৪-২৫ এ, তা কমে ৬৩ হাজার ১০০টিতে নেমে আসে। এক বছরের ব্যবধানে পরিবহন কমেছে ১৭ হাজার ৬১৯টি। সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এই সংখ্যা আরো কমে ৫৪ হাজার ৫৬৯টিতে পৌঁছেছে। আগের অর্থবছরের তুলনায় এই সংখ্যা কমেছে ৮,৫৩১টি। দুই অর্থবছর মিলিয়ে রেলপথে কনটেইনার পরিবহন ২৬ হাজার ১৫০টি বা ৩২.৪ শতাংশ কমেছে। চট্টগ্রাম বন্দরের মোট কনটেইনার পরিবহনের মাত্র ২ শতাংশ রেলপথে হয়ে থাকে। মূলত বন্দরের অভ্যন্তর থেকে রেলপথে কনটেইনার পরিবহন করা হয়। ফলে, দেশের আমদানি-রপ্তানি পণ্য পরিবহনে রেলওয়ের সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও বন্দরের সামগ্রিক পরিবহনব্যবস্থায় এর অংশ সীমিত রয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ঢাকার কমলাপুর ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোতে (আইসিডি) রেলপথে কনটেইনার পরিবহন করা হয়। ঢাকাকেন্দ্রিক আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকদের পণ্য ব্যবস্থাপনায় এই আইসিডি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ২০২৫ সালের প্রথম ৯ মাসে কমলাপুর আইসিডিতে ৫৩ হাজার ৩৪৪ টিইইউ কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা হয়েছে। চলতি বছরের একই সময়ে তা কমে ৪১ হাজার ৬২৭ টিইইউতে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে হ্যান্ডলিং কমেছে প্রায় ২২ শতাংশ। টিইইউ হলো ২০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি কনটেইনারের সমতুল্য একক। সাধারণত ৪০ ফুটের একটি কনটেইনার দুই টিইইউ হিসেবে গণনা করা হয়।
বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান পরিবহন কর্মকর্তা শফিকুর রহমান জানান, সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার করে বন্দর থেকে কনটেইনার পরিবহনের চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রতিদিন ৬০০টির বেশি কনটেইনার পরিবহনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তবে, সক্ষমতা অনুযায়ী কনটেইনার পরিবহনের চাহিদার পুরোটা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। ইঞ্জিন ও লোকবলের সংকট দূর করা গেলে কনটেইনার পরিবহন আরো বাড়ানো সম্ভব হবে। রেলসেবার মান বাড়াতে বেশ কয়েকটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।
রেলপথে ২০ শতাংশ পণ্য পরিবহনের লক্ষ্য
চট্টগ্রাম বন্দরের বিদ্যমান ও নির্মাণাধীন সব টার্মিনালকে রেলপথের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। সড়কপথের যানজট এড়িয়ে পণ্য পরিবহনে বিলম্ব কমানো এবং তুলনামূলক কম খরচে আমদানি-রপ্তানি পণ্য পরিবহনের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গত বছরের লজিস্টিকস নীতিতে বর্তমানে মোট পণ্য পরিবহনে রেলপথের অংশ ২-৩ শতাংশের বিপরীতে ২০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম দিয়ে প্রায় ৯০ শতাংশ আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
ভবিষ্যতে বন্দরের বিভিন্ন টার্মিনালের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু হলে এবং অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোয় পণ্য পরিবহন বাড়লে রেলপথে পরিবহনের চাহিদাও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন। এই লক্ষ্য সামনে রেখে ‘গ্রিন রেলওয়ে ট্রান্সপোর্ট প্রজেক্ট প্রিপারেশন ফ্যাসিলিটি’ প্রকল্পের আওতায় বন্দরের বিদ্যমান ও নতুন টার্মিনালগুলোর সঙ্গে রেল যোগাযোগ উন্নয়নের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে। এছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম মালবাহী রেল করিডোর উন্নয়ন এবং ফৌজদারহাট থেকে চট্টগ্রাম গুডস পোর্ট ইয়ার্ড পর্যন্ত রেল যোগাযোগ উন্নয়নের বিষয়টিও সমীক্ষায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ২১ শতাংশ
বাংলাদেশ রেলওয়ের গ্রিন রেলওয়ে পরিবহন প্রস্তুতিমূলক কারিগরি সহায়তা প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি মাত্র ২১ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ৬.৬১ শতাংশ। ২০২৫ সালের ১ এপ্রিল শুরু হওয়া প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৭ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত। সেই হিসাবে চলতি বছরের ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত প্রকল্পটির বয়স ১৮ মাস ২৮ দিন। প্রকল্পের আওতায় ঢাকার কমলাপুর ও বিমানবন্দর রেলস্টেশনকে ঘিরে মাল্টিমোডাল পরিবহন হাব নির্মাণ এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম ফ্রেইট করিডোর উন্নয়নের সমীক্ষা চলছে।
কমলাপুর ও বিমানবন্দর স্টেশনকেন্দ্রিক সমীক্ষার জন্য গত ১৪ সেপ্টেম্বর পরামর্শকের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম ফ্রেইট করিডোর সমীক্ষার কাজও মাঠপর্যায়ে চলছে। এছাড়া চট্টগ্রাম গুডস পোর্ট ইয়ার্ড পুনর্গঠন এবং ২০টি মিটারগেজ ডিজেল-ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ সংগ্রহের বিষয়টি মূল্যায়ন করা হচ্ছে। চলতি মাসে এসব কাজের অ্যাসেসমেন্ট রিপোর্ট এবং ডিসেম্বরের মধ্যে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) জমা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট রেলওয়ের এক কর্মকর্তা জানান, বিশ্বব্যাংকের ঋণচুক্তির পর প্রকল্পের দুটি প্যাকেজের সম্ভাব্যতা যাচাই ও কনসেপচুয়াল ডিজাইনের জন্য পরামর্শক নিয়োগ করা হয়েছে। বাকি কাজগুলোও এগিয়ে চলছে। ঋণচুক্তির পর ১২ মাসের হিসাবে প্রকল্পের কাজ ভালোই এগিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন