প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন আর নিজের পরিচয়কে দলের শীর্ষ পদাধিকারী হিসেবে তুলে ধরতে পারবেন না বলে আলিপুরের আদালত আদেশ প্রদান করেছেন। আদালত মমতাকে নির্দেশ দিয়েছেন যে তিনি দলের কোনো প্রশাসনিক কাজ করতে পারবেন না। তিনি দলের নামে কোন আদেশও দিতে পারবেন না। তৃণমূল কংগ্রেসের সাবেক এক নেত্রীর দায়েরকৃত মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এই আদেশটি প্রদান করেন।
তৃণমূল কংগ্রেসের সাবেক নেত্রী এবং কলকাতা পৌর করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর ও রাজ্যের সাবেক মন্ত্রী অরূপ বিশাসের ভাই স্বরূপ বিশ্বাসের স্ত্রী জুঁই বিশ্বাসের দায়ের করা মামলায় আদালত এই নির্দেশ প্রদান করেন। উল্লেখযোগ্য যে, জুঁই বিশ্বাস ইতিমধ্যেই তৃণমূল ছেড়ে বিদ্রোহী ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিষ্ঠিত নতুন তৃণমূল কংগ্রেসে নাম লিখিয়েছেন। পাশাপাশি, জুঁইয়ের স্বামী স্বরূপ বিশ্বাস দুর্নীতির মামলায় বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
নতুন তৃণমূল কংগ্রেস ইতিমধ্যে নিজেদের আসল তৃণমূল কংগ্রেস হিসেবে দাবি করেছে। রাজ্যের তৃণমূলের ৮০ বিধায়কের মধ্যে ৬৫ জন বর্তমানে ঋতব্রতের নতুন তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। ঋতব্রত রোববার (১২ জুলাই) উল্লেখ করেছেন, তারা চাইলে নতুন দলের বিধায়কের সংখ্যা এবার ৭৫ জনে পৌঁছাতে পারেন। তবে, তারা সকলকে দলে টানবে না।
আলিপুর আদালত অনুরূপভাবে উল্লেখ করেছেন যে, তৃণমূল কংগ্রেসের বিক্ষুব্ধদের গড়া তৃণমূলের ওয়ার্কিং কমিটির কার্যক্রমে মমতা কোনো বাধা প্রদান করতে পারবেন না। উপরন্ত, তিনি কোনো নিয়োগ কিংবা নির্দেশও দিতে পারবেন না। তৃণমূল কংগ্রেসের সাবেক ব্যাংক হিসাবও মমতাকে পরিচালনা করতে দেওয়া হবে না। সে সাথে, দলের অর্থ, নথিপত্র ও সম্পত্তি সম্পর্কিত কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার অনুমতি নেই।
জুঁই বিশ্বাসের মামলার প্রসঙ্গ তুলে, গতকাল ঋতব্রত বলেন, আলিপুরের আদালতের নির্দেশ মেনে তারা কাজ করবেন। যদিও, তৃণমূলের বিধায়ক আলিফা আহমেদ বলছেন যে, আদালতের ওই নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে এখনই কোনো মন্তব্য করবেন না। বিষয়টি দল বর্তমানে খতিয়ে দেখছে।
অবিভক্ত তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় তহবিলের অর্থ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হতে পারে—এই আশঙ্কা থেকে সাবেক তৃণমূল নেতা স্বরূপ বিশ্বাসের স্ত্রী জুঁই বিশ্বাস আলিপুরের আদালতে এই মামলা দায়ের করেছেন। এতে, জুঁই অভিযোগ করেছেন, মমতারা দলের বহু গুরুত্বপূর্ণ নথি নষ্ট বা পরিবর্তন করতে সক্ষম। এ কারণে, তিনি আদালতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আবেদন জানান। এর পরেই বিচারক ওই অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেন।
এদিকে, আদালত যখন এই নির্দেশ প্রদান করেন, তখন মমতার পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য শোনার সুযোগ ছিল না। আদালত জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনা করে ওই অন্তর্বর্তী আদেশটি প্রদান করে। একই সঙ্গে, তৃণমূলের বৈধতা নিয়ে আলোচনা করার কথাও উল্লেখ করেছে। আগামী ৬ আগস্ট এই মামলায় পরবর্তী শুনানির দিনে দুই পক্ষের বক্তব্য শোনা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন