প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার রায়গঞ্জ বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন মামনি মার্কেটের আরাফাত টি স্টোরে গ্যাসের সিলিন্ডারের পাইপ লিকেজ থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। তবে দোকানদারের সাহসিকতা ও ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত তৎপরতায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে মার্কেটটি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যা আনুমানিক ৫টা ৪৫ মিনিটের দিকে আরাফাত টি স্টোরে থাকা একটি গ্যাসের সিলিন্ডারের পাইপ হঠাৎ লিক হয়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই সিলিন্ডার থেকে গ্যাস বের হয়ে আগুন ধরে যায়। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় আশপাশের ব্যবসায়ী ও পথচারীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়।
দোকানদার মো. জয়নাল আবেদীন জানান, ঘটনার সময় তিনি দোকানের ভেতরে কাজ করছিলেন। হঠাৎ গ্যাসের সিলিন্ডারের পাইপ লিক হয়ে দাউদাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে। তিনি প্রথমে দোকানের ভেতর থেকেই আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে না পেরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জ্বলন্ত সিলিন্ডারটি দোকানের বাইরে নিয়ে আসেন।
জয়নাল আবেদীন বলেন,হঠাৎ করে আগুন জ্বলে ওঠায় আমি হতভম্ব হয়ে পড়ি। প্রথমে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেও পারিনি। পরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জ্বলন্ত সিলিন্ডারটি দোকানের বাইরে নিয়ে আসি। তখন খুব চিন্তায় ছিলাম এই বুঝি আমার জীবনের সম্বলটুকু শেষ হয়ে যাচ্ছে।
পাশের দোকানদার মো. রিপন বলেন, হঠাৎ পাশের দোকানে দাউদাউ করে আগুন জ্বলতে দেখে তিনি দ্রুত সেখানে ছুটে যান। পরিস্থিতি দেখে দোকানদারকে যেকোনোভাবে জ্বলন্ত সিলিন্ডারটি দোকানের বাইরে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। পরে দোকানদার জয়নাল আবেদীন ঝুঁকি নিয়ে সিলিন্ডারটি বাইরে নিয়ে আসেন।
খবর পেয়ে নাগেশ্বরী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ফায়ার সার্ভিসের প্রধান মোফাজ্জল জানান, খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তারা দেখতে পান গ্যাসের সিলিন্ডারে আগুন জ্বলছে। পরে ভেজা চটের বস্তা ব্যবহার করে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনে সিলিন্ডারটি নিরাপদ করা হয়।
তিনি জানান, জ্বলন্ত সিলিন্ডারটি দোকানের বাইরে নিয়ে আসায় আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। ফলে আগুন আশপাশের দোকান বা মার্কেটে ছড়িয়ে পড়তে পারেনি এবং বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
ঘটনার পর রায়গঞ্জ বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় কিছু সময়ের জন্য আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, সময়মতো জ্বলন্ত সিলিন্ডারটি দোকানের বাইরে নেওয়া না হলে আগুন পাশের দোকানগুলোতেও ছড়িয়ে পড়তে পারত। তবে দোকানদারের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ ও ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাসের সিলিন্ডারের সংযোগকারী পাইপ লিকেজ থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন