প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের পাঞ্জাবের লাভলি প্রফেশনাল ইউনিভার্সিটিতে (এলপিইউ) রবিবার এক ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিক্ষোভ সহিংস রূপ ধারণ করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শপিং মলে দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটের দৃশ্য দেখা যায়।
ভিডিওগুলোতে ক্যাম্পাসের মল থেকে মানুষকে খাবার, ইলেকট্রনিক্স পণ্য ও অন্যান্য সামগ্রী নিয়ে যেতে দেখা যায়। একটি ভিডিওতে একজনকে বলতে শোনা যায়, "ভাই, পিএস৫ নিয়ে এসেছি," অন্য একটি ভিডিওতে শোনা যায়, "ফ্রি-তে শপিং, শপিং ডান।" তবে ভিডিওতে উপস্থিত সবাই এলপিইউ-এর শিক্ষার্থী কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অনলাইনে প্রকাশিত অন্যান্য ভিডিওতে ক্যাম্পাসের দোকানপাট, এটিএম বুথ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির চিত্রও দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, ক্যাম্পাসে এক নির্মাণ শ্রমিক দ্বারা এক ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হন এবং পরে তিনি আত্মহত্যা করেন। এই ঘটনার প্রতিবাদেই শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে অংশ নেন।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগ সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করে এটিকে "মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও মনগড়া" বলে দাবি করেছে।
এদিকে, পুলিশ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে ৭ সদস্যের একটি বিশেষ তদন্ত দল (সিট) গঠন করেছে। তদন্তকারীরা সিসিটিভি ফুটেজ, ফরেনসিক আলামত, কল রেকর্ড ও অন্যান্য ডিজিটাল প্রমাণ খতিয়ে দেখছেন।
জলন্ধর রেঞ্জের ডিআইজি নবীন সিংলা জানান, গার্লস হোস্টেল ৩-এর ৫০৪ নম্বর রুমে ঠিক কী ঘটেছিল এবং অভিযোগ অনুযায়ী এমন কোনো ঘটনা আদৌ ঘটেছে কি না, তা তদন্তে বের হয়ে আসবে।
সোমবার এই বিতর্ক নতুন মোড় নেয়, যখন এলপিইউ-এর পক্ষ থেকে প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে থাকা তিন ছাত্রী সেই রেকর্ডিং ব্যবহারের ধরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের রেজিস্ট্রার ড. মনিকা গুলাটি ও ওই তিন ছাত্রীকে নিয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছিল, যেখানে তারা বলেছিলেন যে ৫০৪ নম্বর রুমে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
কিন্তু এর একদিন পর, ওই ছাত্রীরা অন্য একটি ভিডিওতে এসে দাবি করেন যে, তাদের আগে থেকেই শিখিয়ে দেওয়া হয়েছিল কী বলতে হবে। তাদের আরও অভিযোগ, সম্মতি ছাড়াই মূল রেকর্ডিংটি কাটছাঁট (এডিট) করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপলোড করা হয়েছে।
ভিডিওতে এক ছাত্রী বলেন, "আমাদের ভিডিওটি কেটে ছোট করে ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা হয়েছে। এ বিষয়ে আমরা কিছুই জানতাম না এবং আমাদের কোনো সম্মতি নেওয়া হয়নি। এখন অহেতুক আমাদের গালিগালাজ করা হচ্ছে।"
তবে এই ভিডিওটির সত্যতা এবং শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের আগের অবস্থানে অনড় থেকে জানিয়েছে যে, তারা যাচাইকৃত তথ্যের ওপর নির্ভর করছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি তদন্ত করছে।
ক্যাম্পাসের গণ্ডি পেরিয়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে বাইরের ৪৪ নম্বর জাতীয় সড়কে। পুলিশ জানিয়েছে, অবরোধ সরানোর চেষ্টা করা হলে বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষে একাধিক পুলিশ সদস্য আহত হন এবং পুলিশের গাড়িসহ বেশ কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষার্থী—উভয় পক্ষই আলাদাভাবে দাবি করেছে যে, বিশৃঙ্খলা চলাকালীন বহিরাগতরা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছিল। এই বিষয়টিও পুলিশের তদন্তের আওতায় রয়েছে। সোমবার পাঞ্জাবের ডিজিপি গৌরব যাদব ক্যাম্পাস পরিদর্শন করেন। তিনি জানান পুলিশ সর্বোচ্চ ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে, তবে সহিংসতার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে পরবর্তী ১০ দিনের জন্য সব ধরনের নিয়মিত ক্লাস বন্ধ ঘোষণা করেছে এলপিইউ কর্তৃপক্ষ। এছাড়া সাময়িক পরীক্ষাসমূহ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সাথে পরামর্শ করে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। পাশাপাশি যারা ক্যাম্পাসে অবস্থান করছেন, তাদের হোস্টেলের ভেতরে থাকতে এবং কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলায় না জড়াতে সতর্ক করা হয়েছে।
সোমবার পুরো ক্যাম্পাস জুড়ে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়। সহিংসতার ঘটনায় আতঙ্কিত অনেক শিক্ষার্থীকে ব্যাগপত্র গুটিয়ে ক্যাম্পাস ছেড়ে যেতে দেখা গেছে। এদিকে পাঞ্জাব রাজ্য মহিলা কমিশনও এই ঘটনার বিষয়ে কাপুরথালার ডেপুটি কমিশনার ও এসএসপির কাছে বিস্তারিত প্রতিবেদন তলব করেছে। কমিশন এফআইআর, এসআইটি তদন্তের অগ্রগতি এবং নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে। যৌন নির্যাতনের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিডিও কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া বিতর্ক এবং ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতা—সবকিছুরই এখন তদন্ত চলছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন