প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দেশের বাজারে সুগন্ধি চালের চাহিদা ও দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে, সরকার এবার এই চাল রপ্তানিতে কঠোর শর্ত আরোপ করেছে। সম্প্রতি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রতীকী ছবি প্রকাশ করা হয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের বাজারে সুগন্ধি চালের চাহিদা ও দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে, যার ফলস্বরূপ এবার এই চাল রপ্তানিতে কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে। আগে থেকে অনুমোদন দেওয়া রপ্তানি কোটা পুনর্বিবেচনা করে তা কিছুটা কমানো বা সমন্বয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে, রপ্তানির অনুমতি প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী ৩ কর্মদিবসের মধ্যে তাদের প্রকৃতপক্ষে কত পরিমাণ সুগন্ধি চাল বিদেশে রপ্তানি করেছে তা জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি-২ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি জারি করা হয়েছে।
প্রকাশিত চিঠিতে বলা হয়েছে, সুগন্ধি চালের বর্তমান বাজার পরিস্থিতি ও অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধির বিষয় বিবেচনা করে, আগে দেওয়া রপ্তানি অনুমোদনের পরিমাণ হ্রাস বা সমন্বয় করা অপরিহার্য। এজন্য অনুমতিপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী ৩ কর্মদিবসের মধ্যে তাদের প্রকৃত রপ্তানির পরিমাণের বিস্তারিত তথ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি-২ শাখায় জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিশেষভাবে, যেসব প্রতিষ্ঠান অনুমতি পাওয়ার পরও নির্ধারিত পরিমাণ সুগন্ধি চাল রপ্তানি করতে পারেনি অথবা আংশিক রপ্তানি করেছে, তাদের অব্যবহৃত কোটা পুনর্বিবেচনার আওতায় আসতে পারে।
গত ২ আগস্ট, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সুগন্ধি চালের বাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সেই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকের সময় চালের উৎপাদন, অভ্যন্তরীণ চাহিদা, বাজার পরিস্থিতি ও রপ্তানির প্রকৃত চিত্র পর্যালোচনা করা হয়েছিল।
সভায় জানানো হয়, অনুমতি পাওয়া অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের নির্ধারিত কোটা অনুযায়ী চাল রপ্তানি করতে পারেনি। কিছু প্রতিষ্ঠান আংশিক রপ্তানিও করেছে। যার ফলে, অনুমোদিত কোটা ও প্রকৃত রপ্তানির মধ্যে একটি বড় ব্যবধান তৈরি হয়েছে। এই কারণেই প্রতিষ্ঠানভিত্তিক প্রকৃত রপ্তানির হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
আগেই, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের ভিত্তিতে প্রথম দফায় গত ১৩ মে ২১১টি এবং দ্বিতীয় দফায় ৬৭টিসহ মোট ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানের জন্য ৪৫ হাজার ২৭০ টন সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
বৈঠকে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে জানা গেছে, দেশের শীর্ষ ১০টি বড় মিল মালিকদের কাছে বিপুল পরিমাণ সুগন্ধি চাল মজুদ রয়েছে। ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন যে, তারা বাজারে প্রয়োজন অনুযায়ী চাল না ছেড়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে মূল্যবৃদ্ধি ঘটাচ্ছে।
এসব বিষয় পর্যালোচনার পর, বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অতিরিক্ত মুনাফা করার প্রবণতা ঠেকাতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কঠোর তদারকির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইতোমধ্যে, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সঙ্গে সহযোগিতায় বাজার মনিটরিং আরও জোরদার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পরবর্তীতে, রপ্তানির অনুমতি পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো যারা নির্ধারিত পরিমাণ সুগন্ধি চাল বিদেশে রপ্তানি করতে পারেনি, তাদের অব্যবহৃত কোটা বরাবর রাখার যৌক্তিকতাও পর্যালোচনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এজন্য জরুরি ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে প্রকৃত রপ্তানির তথ্য বলা হয়েছে। এসব তথ্য যাচাই করার পর অনুমোদিত রপ্তানি কোটা কমানো বা সমন্বয়ের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন