প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নয় দিনের মধ্যে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চারজনের মৃত্যু ঘটেছে। একই সময়ে, হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর পর্যন্ত, হাসপাতালে ১০৬ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) চিকিৎসাধীন অবস্থায় আশা খাতুন (৩৫) নামে এক নারীর মৃত্যু ঘটে।
হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শেখ মো. শামীম গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন, জানিয়ে তিনি বলেন, মারা যাওয়া আশা খাতুন চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের বালুবাগান এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ১৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আশা খাতুনকে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তার মৃত্যু ঘটে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কয়েকদিন আগে তিনি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং স্থানীয়ভাবে চিকিৎসাও নিয়েছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজশাহী মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। ডেঙ্গু শকড সিন্ড্রোমে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ডা. শামীম নিশ্চিত করেন।
এভাবে গত নয় দিনে রামেক হাসপাতালে চারজন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু ঘটেছে। হাসপাতাল সূত্রে আরও জানা গেছে, বর্তমানে রামেক হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। প্রতিদিন গড়ে সাত থেকে আটজন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হচ্ছেন।
গত ৭ সেপ্টেম্বর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ছিল ৬৫ জন। পরদিন ৮ সেপ্টেম্বর বেড়ে হয় ৬৮ জন। ৯ সেপ্টেম্বর ৬৯ জন এবং ১১ সেপ্টেম্বর ৭০ জন রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন। ১২ সেপ্টেম্বর রামেক হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৭৫ জনে, ১৩ সেপ্টেম্বর ৮০ জন এবং ১৪ সেপ্টেম্বর তা বেড়ে হয় ৮৪ জন। সর্বশেষ ১৫ সেপ্টেম্বর ৯৬ জন এবং বুধবার দুপুর পর্যন্ত রামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১০৬ জন।
রামেক হাসপাতালের ডেঙ্গু তথ্য কেন্দ্রের সূত্র অনুযায়ী, গত ৭ সেপ্টেম্বর থেকে মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হওয়া রোগীর মোট সংখ্যা ছিল ১৭৬ জন। এর মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৭০ জন। বর্তমানে ১০৬ রোগী হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। রাজশাহী অঞ্চলে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় গত ৭ সেপ্টেম্বর থেকে হাসপাতালের পৃথক ডেঙ্গু ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে।
রামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, নয় দিনে হাসপাতালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট চারজন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। তাদের প্রত্যেকের মৃত্যুর কারণ ছিল ডেঙ্গু শকড সিন্ড্রোম।
মৃতদের মধ্যে পাবনার বেড়া এলাকার বাসিন্দা ইমরুল কায়েস হৃদয় (২৬) গত ৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ভর্তি হয়ে একই দিন রাতে মারা যান। নাটোরের বনপাড়ার শিক্ষার্থী জিত সরকার (২২) ৮ সেপ্টেম্বর ভর্তি হয়ে পরদিন ৯ সেপ্টেম্বর সকালে মারা যান।
এ ছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটের ব্যবসায়ী হৃদয় (২৪) ১৩ সেপ্টেম্বর ভর্তি হওয়ার পরদিন ১৪ সেপ্টেম্বর ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। সর্বশেষ ১৫ সেপ্টেম্বর মারা গেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের গৃহবধূ আশা খাতুন।
রাজশাহী অঞ্চলে ডেঙ্গুর চলমান প্রকোপ সম্পর্কে রাজশাহী মেডিকেল হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শেখ মো. শামীম জানান, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৭ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন এবং এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে তিনজন ছাড়পত্র পেলেও বর্তমানে হাসপাতালে মোট ১০৬ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদিকে রামেক হাসপাতালের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, রাজশাহী বিভাগের চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও পাবনা এলাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি। মৃতদের বেশির ভাগই এই দুই জেলার বাসিন্দা। আক্রান্তদের অধিকাংশই এই দুই জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিভাগের বিভিন্ন জেলায় নানাবিধ সচেতনতামূলক কর্মসূচির পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন