প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বৃষ্টি হলেই হাঁটুসমান পানিতে তলিয়ে যায় বাজার, বাজারের সড়ক ও গলিপথ। ভারী বৃষ্টির ফলে কোথাও সেই পানি কোমরসমান হয়ে যায়। ময়লা-আবর্জনায় বন্ধ হয়ে যাওয়া সরু নালা দিয়ে পানি নিষ্কাশনে বাধা সৃষ্টি হয়। ক্রেতা-বিক্রেতাদের চলাচল করতে হয় দোকানের সামনে জমে থাকা নোংরা পানির মধ্য দিয়ে।
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার উদয়পুর ইউনিয়নের জনবহুল মোসলেমগঞ্জ বাজারে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর)-ও ভারী বৃষ্টির কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যা চললেও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের মতে, প্রতি শুক্রবার ও মঙ্গলবার মোসলেমগঞ্জ বাজারে হাট বসে। হাটের দিন মানুষের ভিড় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়। তারা জানান, কার্যকর ও পরিকল্পিত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় বাজারের বিভিন্ন সড়ক, গলি ও দোকানের সামনে হাঁটুসমান পানি জমে যায়।
কোথাও পানি কোমর পর্যন্ত পৌঁছে যায়। কাঁচাবাজার এবং মুদিদোকানসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়ে। ময়লা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানির মধ্য দিয়ে চলাচল করতে হয়, বাজার-সদাই করতে গিয়ে। এতে ক্রেতা-বিক্রেতাদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
স্থানীয়রা আরো জানান, বাজারটিতে দুই শতাধিক দোকান রয়েছে। প্রতিদিন আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের মানুষ সেখানে কেনাকাটা করতে আসে। হাটের দিন ক্রেতা-বিক্রেতার সংখ্যা অনেক বেশি হয়ে যায়। কিন্তু বৃষ্টি হলে বাজারের প্রধান গলি, কাঁচাবাজার ও বিভিন্ন দোকানের সামনে পানি জমে যাওয়ায় কেনাবেচা কঠিন হয়ে পড়ে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাজারে ড্রেন নির্মাণ করা হলেও সেগুলো অত্যন্ত সরু এবং অনেক জায়গায় ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হয়ে গেছে। ফলে বৃষ্টির পানি দ্রুত সরতে পারে না। নালা উপচে ময়লা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি বাজারে উঠে আসে। ভারি বৃষ্টির সময় সেই পানি দোকানের ভেতরেও ঢুকে পড়ে। এতে ব্যবসায়ীদের পণ্য নষ্ট হয়, অন্যদিকে ক্রেতাদেরও বাজারে ঢুকতে দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
মুদিদোকানদার সাইফুল ইসলাম বলেন, "বৃষ্টি হলেই দোকানের সামনে পানি জমে যায়। ভারি বৃষ্টি হলে পানি দোকানের ভেতরেও ঢুকে পড়ে। মালামাল উঁচু করে রাখতে হয়, তবুও সব সময় রক্ষা করা যায় না। পানি জমে থাকায় ক্রেতারাও দোকানে আসতে চান না। দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা চললেও স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।"
ব্যবসায়ী ওয়াসিম আহম্মেদ বলেন, "বাজারে ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু তা কোনো কাজে আসছে না। নালা খুবই সরু এবং ময়লা-আবর্জনায় ভরে গেছে। এ কারণে অল্প বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। নালার ময়লা-আবর্জনা বৃষ্টির পানির সঙ্গে বাজার ও সড়কে উঠে আসে। মুষলধারে বৃষ্টি হলে নালার নোংরা পানি পাশের দোকানগুলোতেও ঢুকে পড়ে। তখন সাধারণ মানুষকে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হয়।"
আরেক ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন বলেন, "বছরের পর বছর ধরে আমরা এমন দুর্ভোগ পোহাচ্ছি। বাজারের ড্রেন সংস্কারের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। বাজারে পানি জমে থাকলে ব্যবসা করাও কঠিন হয়ে পড়ে। ক্রেতারা পানির কারণে দোকানে আসতে চান না, ফলে বেচাকেনাও কমে যায়।"
ক্রেতা জুবায়ের হোসেন জানান, "বাজারে প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে এসে পানির মধ্যে দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। কোথায় সড়ক, আর কোথায় পানি জমে আছে- বোঝা কঠিন। বয়স্ক মানুষ ও শিশুদের নিয়ে বাজারে আসা খুবই কষ্টকর। বাজারের পানি দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা দরকার।"
ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, বাজারের পুরনো নালা ও ড্রেনগুলো নিয়মিত পরিষ্কার না করায় কোথাও ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হয়ে গেছে, কোথাও নালা সরু হওয়ায় ভারি বৃষ্টির পানি ধারণ করতে পারে না। এর সঙ্গে পানি নিষ্কাশনের কার্যকর আউটলেট না থাকায় বৃষ্টির পানি দ্রুত বের হতে না পেরে সড়ক ও দোকানের সামনে জমে থাকে।
উদয়পুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নূরনবী বলেন, "দীর্ঘদিন ধরেই ড্রেন সংস্কার ও সম্প্রসারণের দাবি জানানো হলেও স্থায়ী কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। ফলে বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই একই পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে। বাজারের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থার পাশাপাশি স্থায়ী ড্রেন নির্মাণ প্রয়োজন।"
এ ব্যাপারে মোসলেমগঞ্জ বাজারের হাট ইজারাদার মো. মাজারুল ইসলাম বলেন, "মোসলেমগঞ্জ বাজারে এখনও সরকারি বরাদ্দ হয়নি। আর্থিক সংকটের কারণে বাজারের ড্রেন সংস্কার বা নির্মাণ করতে সময় লাগছে। এখন কোনো কাজ করলে তা নিজস্ব তহবিল থেকে করতে হবে। তবে চেষ্টা করব, যেন কিছুটা সংস্কার করে মানুষের ভোগান্তি দূর করা যায়।"
কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সাল আহমেদ বলেন, "মোসলেমগঞ্জ বাজারের জলাবদ্ধতার বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। সরেজমিন দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন