প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশ সফরে আসছে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ প্রতিনিধিদল বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। তিনি শনিবার তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বাইরেট অনুষ্ঠিত একটি সংবাদ সম্মেলনে এই বিষয়ে কথা বলেন।
অনুযায়ী, বিনিয়োগের সুযোগ অনুসন্ধান এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার লক্ষ্যে আগামী সপ্তাহের শেষ নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি শীর্ষস্থানীয় কোম্পানির প্রায় ৪৫ জন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বাংলাদেশ সফরে আসছেন।
এই প্রতিনিধি দল সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করবেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গেও তাদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।
আজ শনিবার বিকেলে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বাইরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
উল্লেখ্য, দক্ষিণ ও মধ্য এশীয় বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গরের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক শেষে এ ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মাহ্দী আমিন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদলের সফর বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ বাড়ানো এবং দু’দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও গভীর করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে।
তিনি বলেন, ‘সকালে অনুষ্ঠিত আলোচনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের ওপর দৃ firm আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করা হয়েছে। দেশের প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেছেন যে, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরেছে এবং একটি সুন্দর গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রয়েছে।’
গত পাঁচ মাসে সরকারের গৃহীত নীতি ও পদক্ষেপগুলোকে মার্কিন পক্ষ সাধুবাদ জানিয়েছে উল্লেখ করেছে মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, ‘বহুমাত্রিক ও বহুপাক্ষিক সম্পর্ককে একটি সুদৃঢ় অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র আরও বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশ সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থা অর্জনের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর (স্টেট ডিপার্টমেন্ট) থেকে যে ট্রাভেল অ্যাডভাইজারি করা হয়, তার বর্তমান অবস্থান মার্কিন বিনিয়োগকারী ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত। এর মাধ্যমে মার্কিন উদ্যোক্তারা বাংলাদেশে এসে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এক্সপ্লোর করতে পারবেন। এই সফরের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়বে এবং দেশে বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বাংলাদেশের স্থানীয় বিজনেস কমিউনিটির প্রথম সারির উদ্যোক্তা ও শিল্পপতিদের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলেও জানান মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, বৈঠকে সরকারের বেশ কয়েকজন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিগত স্বৈরাচারী শাসনের কারণে রাষ্ট্রব্যবস্থায় এবং বাণিজ্য-বিনিয়োগ ক্ষেত্রে যে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছিল তা উল্লেখ করে মাহ্দী আমিন বলেন, বর্তমান নির্বাচিত বিএনপি সরকার তা কাটিয়ে ওঠার নিরবচ্ছিন্ন চেষ্টা চালাচ্ছে। বৈঠকে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দীর্ঘমেয়াদি ঘাটতি নিরসন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, কর ও শুল্ক সংস্কার এবং অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে (যেমন বেজা ও বিইপিজেডএ) বিনিয়োগের জটিলতা দূর করার তাগিদ দেন।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তাদের বক্তব্য মনোযোগসহকারে শোনেন এবং একটি ‘প্রো-বিজনেস’ ও ‘প্রো-ইনভেস্টমেন্ট’ পরিবেশ নিশ্চিতের আশ্বাস দেন।
মাহ্দী আমিন বলেন, আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য আরও দ্রুত ও সহজ করতে ব্যবসায়ী সমাজের প্রস্তাবের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ করে চট্টগ্রাম বন্দর এবং ঢাকা বিমানবন্দরসহ অন্যান্য বন্দরে কমার্শিয়াল অ্যাক্টিভিটি সচল রাখতে ২৪/৭ সেবা প্রদানের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে দ্রুত নির্দেশ দেন।
মাহ্দী আমিন পুনর্ব্যক্ত করেন যে, দেশের বিশাল ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বা তরুণ সমাজকে দক্ষ ও আত্মকর্মসংস্থানে উপযোগী করে গড়ে তোলাই এই সরকারের মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, ‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’- এই নীতিকে ধারণ করে জনবান্ধব বাজেট ও নীতিমালার সফল বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এবং সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হক।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন