প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের রাজস্থানের এক বিজ্ঞানী প্রাচীন ভারতীয় ‘রসশাস্ত্র’ বা আলকেমির সূত্র অনুসরণ করে পারদ থেকে সোনা তৈরির দাবি করেছেন। তার দাবি অনুযায়ী, পরীক্ষাগারে পারদের উপরিভাগে ৯৯.০৪ শতাংশ বিশুদ্ধ সোনার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। তবে এই দাবি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
বিজ্ঞানী মহলের একটি অংশের মতামত হলো, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ যাচাই ছাড়া এই ফলাফলকে আবিষ্কার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া সম্ভব নয়।
জানা গেছে, জয়পুরের কানোদিয়া কলেজের পদার্থবিজ্ঞান গবেষণাগারে ০.২৪০ গ্রাম পারদ ব্যবহার করে পরীক্ষা পরিচালনা করা হয়। পরীক্ষার পর নমুনার উপরিভাগে ৯৯.০৪ শতাংশ সোনা, ০.৪৮ শতাংশ রুপা এবং ০.৪৮ শতাংশ তামার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। ওই পরিমাণ বিশুদ্ধতা প্রায় ২৩.৭৭ ক্যারেট সোনার সমতুল্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
গবেষক লাল বাহাদুর জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে পারদের বিশুদ্ধকরণ ও ধাতু রূপান্তর নিয়ে গবেষণা করছেন। প্রাচীন ভারতীয় রসশাস্ত্র এবং আচার্য নাগার্জুনের গবেষণা ও রচনা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি এই পরীক্ষা করেছেন। বিআইটিএস পিলানি থেকে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক এই গবেষক পোখরান-২ পারমাণবিক পরীক্ষার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। তার দাবি, পরীক্ষায় কোনো তেজস্ক্রিয়তার উপস্থিতি শনাক্ত হয়নি।
তবে পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠেছে। পারদের নমুনায় পাওয়া সোনা কি আগে থেকেই অশুদ্ধি হিসেবে উপস্থিত ছিল, নাকি পরীক্ষার সময় বাইরের কোনো উৎস থেকে সোনা জমা হয়েছে, তা নিশ্চিত নয়। বিষয়টি যাচাই করতে নমুনার বিস্তারিত উপাদান বিশ্লেষণ, পুনরায় পরীক্ষা, এক্স-রে ফ্লুরোসেন্স এবং আইসোটোপ বিশ্লেষণের প্রয়োজন রয়েছে।
এদিকে, এই গবেষণার ফলাফল এখনও কোনো পিয়ার-রিভিউড বৈজ্ঞানিক জার্নালে প্রকাশিত হয়নি। ফলে দাবিটির পক্ষে স্বাধীন বৈজ্ঞানিক প্রমাণও সামনে আসেনি। জয়পুরের মালব্য ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমএনআইটি)-তে এ বিষয়ে আরও তদন্তের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে।
বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে পারদ ও সোনা দুটি সম্পূর্ণ আলাদা মৌল। পারদের পরমাণুতে ৮০টি প্রোটন রয়েছে, যেখানে সোনার পরমাণুতে ৭৯টি প্রোটন বিদ্যমান। সাধারণ রাসায়নিক বিক্রিয়ায় কোনো মৌলের প্রোটন সংখ্যা পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তাই পারদকে সোনায় রূপান্তর করতে হলে পারমাণবিক স্তরের বিশেষ প্রক্রিয়া প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে, প্রাচীন ভারতীয় রসশাস্ত্রের সূত্র ধরে পারদ থেকে সোনা তৈরির এই দাবি নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে। তবে পরীক্ষার ফলাফল স্বাধীনভাবে যাচাই না হওয়া পর্যন্ত এটিকে প্রমাণিত বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার হিসেবে গণ্য করা সম্ভব নয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন