প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বেনাপোল পোর্ট থানায় যোগদান করার মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যে নবাগত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদ তিতুমীর মাদকবিরোধী কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে স্থানীয় জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। একের পর এক অভিযান পরিচালনা, পাড়া-মহল্লায় সরাসরি উপস্থিতি এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা প্রদান করছেন। তাঁর এই উদ্যোগের ফলে বেনাপোলজুড়ে নতুন আশার সঞ্চার ঘটেছে।
সম্প্রতি, স্থানীয় একটি মসজিদে নামাজ আদায় করার সময় মুসল্লিদের সামনে মাদক নির্মূলে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন ওসি শহীদ তিতুমীর। এ সময় তিনি উল্লেখ করেন, "হয় বেনাপোলে মাদক ব্যবসায়ীরা থাকবে, না হয় পুলিশ থাকবে।" তাঁর এই বক্তব্য উপস্থিত মুসল্লি ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
যোগদান করার পর থেকেই মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম শুরু করেছেন তিনি। পুলিশ বারোপোতা বাজারে অভিযান চালিয়েছে, যা মাদক চোরাচালানের অন্যতম প্রবেশপথ হিসেবে পরিচিত। পাশাপাশি, ছোটআঁচড়া-শিকড়ি সড়ক, বেনাপোল পৌরগেটসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
এখানেই থেমে থাকেননি ওসি। বেনাপোল পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন বাড়িতে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করেছেন। তিনি মাদক ব্যবসা ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর বার্তা হলো, "প্রয়োজনে দুই হাত-পা দিয়ে পরিশ্রম করে জীবিকা নির্বাহ করতে হবে, তবুও মাদক বিক্রির মতো অপরাধে জড়ানো যাবে না।"
মাদকের পাশাপাশি কিশোর ও তরুণদের মোবাইল আসক্তি এবং অনলাইন জুয়া নিয়েও তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। বিশেষ করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের মোবাইলের অপব্যবহার ও অনলাইন জুয়ার ফাঁদে পা না দিতে অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
বেনাপোল দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর ও সীমান্তবর্তী এলাকা। এই অঞ্চলে মাদক চোরাচালান প্রতিরোধ পুলিশের জন্য বরাবরই একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তাই শুধুমাত্র অভিযান নয়, অপরাধ দমনে ধারাবাহিক নজরদারি এবং স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাও অত্যাবশ্যক।
যোগদানের পাঁচ দিনের মধ্যে ওসি শহীদ তিতুমীরের এই কার্যক্রম স্থানীয় জনগণের মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি করেছে। তবে এই কঠোর অবস্থান কতটা কার্যকর ও দীর্ঘস্থায়ী হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, মাদক ও অপরাধ দমনে তাঁর এই উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে এবং বেনাপোল পোর্ট থানা সুনাম ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন