প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশের মধ্যে ডেঙ্গু সংক্রমণে পিরোজপুর জেলা শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে পিরোজপুর জেলা হাসপাতাল এবং বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৭২ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। জানুয়ারি মাস থেকে আক্রান্তের সংখ্যা ৩৫০০ জনের বেশি হয়ে গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সচেতনতার অভাবের কারণে পুরো জেলায় ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৭২ জন রোগী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে। পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে ২৪ জনসহ মোট ৭২ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। হাসপাতালের ফ্লোরে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় ডেঙ্গু কর্নারে চাপাচাপি করে ডেঙ্গু ও সাধারণ রোগীদের রাখা হচ্ছে। জেলা হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা ধারণক্ষমতার চারগুণ বেড়ে গেছে। বাধ্য হয়ে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নতুন ভবনের দ্বিতীয় তলায় ডেঙ্গু কর্নার স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রায় শতাধিক রোগী ভর্তি রয়েছে।
হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে ২৪ জন, নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৮ জন, কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৭ জন, ভান্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৪ জন, মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ জন এবং জিয়ানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ জন রোগী ভর্তি রয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, পিরোজপুরে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তেমন সচেতনতা নেই। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার অভাব এবং বেপরোয়া জীবনযাপন এসবই ডেঙ্গুর অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।
পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে ভর্তি রোগী সাদমান জানান, "আমি তিন দিন ধরে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছি, শুধু স্যালাইন পাচ্ছি, তেমন ঔষধ পাওয়া যাচ্ছে না। নার্সদের ব্যাপক সংকট দেখা দিচ্ছে।" জেলা হাসপাতালের সেবা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন।
রোগীর স্বজন হালিম হাওলাদার জানান, "পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে রোগী ভর্তি রয়েছে, টেস্টের পর্যাপ্ত সুযোগ পাচ্ছি না। ডেঙ্গু একটি ইমার্জেন্সি রোগ, প্রতিদিন প্লাটিলেট চেক করতে হয়, কিন্তু জেলা হাসপাতালে একদিন রক্ত দিলে পরেরদিন রিপোর্ট দেওয়া হয়। টেস্টের ক্ষেত্রে জরুরি ভিত্তিতে রিপোর্ট দেওয়া দরকার।"
জেলা সুজনের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম বলেন, "ডেঙ্গু নিয়ে কমবেশি সবাই কাজ করছে, কিন্তু কাজের জায়গায় কাজ হচ্ছে না। স্থানীয়দের সচেতন করতে হবে, প্রয়োজনে উপজেলা ধরে রেড জোন ঘোষণা করতে হবে। সাধারণ মানুষ একদমই সচেতন নয়। জেলা তথ্য অফিস পিরোজপুর পৌরসভা, সদর উপজেলা সকলের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য মাইকিং করা উচিত।"
পিরোজপুরের সিভিল সার্জন ডা: মো: মতিউর রহমান জানান, "পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি রোগী ভর্তি রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ৭২ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। জেলা হাসপাতাল ও বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জেলায় মোট ২০০ জন রোগী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি রয়েছেন। রোগীদের পর্যাপ্ত চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।"
উল্লেখ্য, জানুয়ারি মাস থেকে জেলায় ৩৫০১ জন রোগী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হলেও এদের মধ্যে ৩৩১৪ জন রোগী সুস্থ হয়েছেন। বর্তমানে জেলা ৭টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ২০০ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। এদের মধ্যে ২ জন রোগী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন