প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গাজীপুরে ছয় বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে আনোয়ার হোসেন নামে এক শিক্ষককে আদালত সশ্রম যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা জরিমানা করার নির্দেশ দিয়েছেন। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে আসামির স্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে প্রাপ্ত টাকা ভিকটিম শিশুকে দেয়ার জন্যও নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবু বকর সিদ্দিক এই রায় প্রদান করেন।
সাজাপ্রাপ্ত আনোয়ার হোসেন খান শরীফপুর এলাকার মো. করিম খানের পুত্র এবং ধানবাড়ী এলাকার আদর্শ শিশু কানন স্কুলের সহকারী শিক্ষক।
রায় ঘোষণার সময় আসামিপক্ষের পক্ষ থেকে বিচারকের কাছে সময়ের আবেদন করা হলেও আদালত তা নামঞ্জুর করে সাজা ঘোষণা করেন এবং সাজা পরোয়ানা জারি করেন। উল্লেখ্য, রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ৩১ আগস্ট সকালে গাজীপুরের গাছা থানার ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের শরীফপুর (ধানবাড়ী) এলাকার একটি স্কুলে গিয়েছিল ওই ৬ বছরের শিক্ষার্থী, যিনি নার্সারি শ্রেণির ছাত্রী। সকাল সোয়া ৯টার দিকে অন্যান্য শিক্ষকরা ক্লাসে চলে গেলে শিক্ষক মো. আনোয়ার হোসেন খান (২০) ওই শিশুটিকে স্কুলের অফিস কক্ষে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ঘটনার পর স্কুলের ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষিকা ফরিদা বেগম (২৫) শিশুটিকে ক্লাস থেকে ডেকে অফিস কক্ষে নিয়ে যান এবং পরবর্তীতে এ ঘটনার বিষয়ে কাউকে না বলার জন্য শিশুটিকে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করেন। পরে শিশুটি তার মাকে বিষয়টি জানায়।
ঘটনার পর ভিকটিম শিশুকে স্থানীয় ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়। পরে পরিবারের সদস্য ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা শেষে ৫ সেপ্টেম্বর ভিকটিমের মা গাছা থানায় এজাহার দায়ের করেন।
মামলায় মূল অভিযুক্ত হিসেবে শরীফপুর এলাকার মো. করিম খানের ছেলে ও স্কুলের সহকারী শিক্ষক মো. আনোয়ার হোসেন খান এবং ঘটনার সহযোগিতার অভিযোগে ফরিদা বেগমকে আসামি করা হয়।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার পর সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে আদালত শিক্ষক আনোয়ার হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন। পলাতক আসামিকে গ্রেফতারের লক্ষ্যে ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় সাজা পরোয়ানা পাঠানো হয়েছে।
ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা যায়, মামলাটিতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) সেলিনা বেগম। শুনানিতে তাকে সহযোগিতা করেন আইনজীবী মহিউদ্দিন ও জাকির কাদের।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন