প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন মন্তব্য করেছেন, বর্তমান সরকারের ক্ষমতায়নই হলো তরুণদের ক্ষমতায়ন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চান, যেখানে দক্ষ ও যোগ্য জনশক্তি গড়ে তোলা হবে, যা তারুণ্যের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করবে।
মাহ্দী আমিন এসব কথা বলেন রাজধানীর মিরপুরে আন্ডারপ্রিভিলেজড চিলড্রেনস এডুকেশনাল প্রোগ্রামস-ইউসেপ বাংলাদেশ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে, বুধবার (২২ জুলাই)।
তিনি যুক্ত করেছেন, প্রধানমন্ত্রী এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থার কথা বলেছেন যেখানে শিল্প খাত ও একাডেমিয়ার মধ্যে সমন্বয় আরো জোরদার হবে। ইন্ডাস্ট্রি একাডেমিক কোলাবরেশন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। সেই শিক্ষাব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য হবে প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও যোগ্যতা অর্জনের মাধ্যমে তরুণদের কর্মসংস্থানের জন্য উপযুক্তভাবে গড়ে তোলা।
মাহ্দী আমিন বুধবার আরও বলেন, শ্রমিকবান্ধব সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই ঈদের সময় শ্রমিকদের মধ্যে কোনো ধরনের অসন্তোষ দেখা যায়নি। শ্রমিকদের অধিকার ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে, বকেয়া, বেতন ও বোনাস নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, আমরা দীর্ঘদিন পর সত্যিকার অর্থে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের প্রতিনিধিত্ব করছি, যেখানে তরুণ সমাজ ছিল একটি বড় অংশ।
তিনি বলেন, কর্মসংস্থানের সুযোগ মূলত চারটি ক্ষেত্রে তৈরি হতে পারে, দেশের বেসরকারি খাতে, সরকারি খাতে, দেশের বাইরে এবং স্বনির্ভর বা উদ্যোক্তা হিসেবে। এই চারটি ক্ষেত্রকেই আমাদের সমান গুরুত্ব ও অগ্রাধিকার দিতে হবে। আমরা এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে সবার চিকিৎসক বা প্রকৌশলী হওয়ার লক্ষ্য হবে না। বরং আমরা দেশের চাহিদা ও বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে, একজন শিক্ষার্থী যে বিষয়ে আগ্রহী এবং দক্ষ, সেই বিষয়ে এগিয়ে যাওয়ার জন্য অবারিত সুযোগ তৈরি করতে চাই।
মাহ্দী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে শিক্ষার্থীদের মেধা, মননশীলতা ও সৃজনশীলতার বিকাশের জন্য বিভিন্ন ট্রেডভিত্তিক দক্ষতা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ নিশ্চিত করা হবে।
তিনি বলেন, বাস্তব জীবনের চাহিদার সঙ্গে প্রশিক্ষণের কার্যকর প্রতিফলন প্রত্যক্ষ করেছি। তিনি শিক্ষার্থী এবং কর্মসংস্থানের জন্য তিন মাস, ছয় মাস বা অন্যান্য স্বল্পমেয়াদি বিভিন্ন কোর্স ও ট্রেডভিত্তিক প্রশিক্ষণের বিস্তার ঘটানোর পরিকল্পনা প্রকাশ করেন। এসব প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বাস্তব কর্মক্ষেত্রের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে পারবে এবং সফল উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে পারবে।
মাহ্দী আমিন আরও জানান, বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্যও প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। তিনি বলেন, আমরা এমন একটি সমন্বিত ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে চাই, যেখানে টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভোকেশনাল এডুকেশন, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, এসএসসি ও এইচএসসি ভোকেশনাল শিক্ষা, টিটিসিসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম একটি অভিন্ন কাঠামোর আওতায় আসবে।
বর্তমানে ২৩টি ভিন্ন মন্ত্রণালয় বিভিন্ন ধরনের দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। মাহ্দী আমিন বলেন, কিন্তু এসব প্রশিক্ষণের কারিকুলাম, সার্টিফিকেশন, প্রশিক্ষণ পদ্ধতি ও শেখানো দক্ষতার মধ্যে সামঞ্জস্যতা প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা সমন্বিতভাবে কাজ করছি। লক্ষ্য হলো, এনএসডিএ-এর সনদ যেন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হয় এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সনদ ও মানের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রতিষ্ঠিত হয়। এর মাধ্যমে দেশের মধ্যে একটি অভিন্ন মানদণ্ড গড়ে উঠবে, যা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় ক্ষেত্রেই কর্মসংস্থানের সুযোগ আরো সম্প্রসারিত করবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন