প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মেয়েদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার পাশাপাশি ছেলেদেরও ছোটবেলা থেকে শেখাতে হবে—‘না’ মানে না। অভিনেত্রী দিয়া মির্জা মনে করেন, ব্যক্তিগত সীমারেখা, সম্মতি, অন্যের সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান এবং প্রত্যাখ্যান মেনে নেওয়ার শিক্ষা ছেলেদের জন্যও অত্যন্ত জরুরি।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ইনস্টাগ্রামে একটি বার্তায় ছেলেদের বড় করার বিষয়ে নিজের চিন্তাভাবনা তুলে ধরেন দিয়া। নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়ার প্রেক্ষাপটে তিনি এ বিষয়ে কথা বলেন।
দিয়া প্রশ্ন করেন, মেয়েদের কিভাবে নিরাপদে থাকতে হবে, তা বারবার শেখানো হয়। কিন্তু ছেলেদের কী শেখানো হচ্ছে? তার মতে, শুধুমাত্র মেয়েদের সতর্ক করে দেওয়ার পরিবর্তে ছেলেদের এমনভাবে বড় করা প্রয়োজন, যাতে তারা অন্য কারো জন্য ক্ষতির কারণ না হয়।
নিজের ছেলে অভিয়ান আজাদ রেখিকে বড় করার ক্ষেত্রেও দিয়া এসব বিষয়কে গুরুত্ব দেন। তার কাছে যত্ন, সম্মান, সহমর্মিতা ও সদয় আচরণ শুধুমাত্র কথার বিষয় নয়; এগুলো শিশুর প্রতিদিনের শিক্ষার অংশ হওয়া উচিত।
অন্যের ব্যক্তিগত পরিসর ও সীমারেখাকে সম্মান করার বিষয়টিও দিয়ার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি মনে করেন, কেউ অস্বস্তিতে পড়লে তার ইঙ্গিত বুঝতে শেখা এবং সেই অনুযায়ী নিজের আচরণ পরিবর্তন করাও ছেলেদের ছোটবেলা থেকেই শেখানো প্রয়োজন।
সম্মতির বিষয়টি নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন দিয়া। তার মতে, কেউ সরাসরি ‘না’ বলেনি মানেই সেখানে সম্মতি রয়েছে—এমন ধারণা সঠিক নয়। কোনো সম্পর্ক বা ঘনিষ্ঠতার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির স্বতঃস্ফূর্ত ও স্বচ্ছন্দ সম্মতি থাকা জরুরি।
প্রত্যাখ্যান মেনে নেওয়ার শিক্ষার ওপরও দিয়া জোর দিয়েছেন। কেউ কারো প্রতি আগ্রহ দেখাল না কিংবা কোনো প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেই সেটিকে অপমান হিসেবে নেওয়া উচিত নয়। অন্যের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া এবং তার ইচ্ছাকে সম্মান করাও পরিণত হওয়ার শিক্ষার অংশ বলে তিনি মনে করেন।
দিয়ার মতে, এসব মূল্যবোধ বড় হওয়ার পর শেখানোর চেয়ে ছোটবেলা থেকেই পরিবারের মধ্যে চর্চা করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। শিশুরা পরিবার ও আশপাশের মানুষের আচরণ দেখেও শেখে। তাই সম্মান, সহমর্মিতা এবং অন্যের সীমারেখার প্রতি শ্রদ্ধাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ করে তোলার ওপর তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন।
২০২১ সালের ১৪ মে পুত্রসন্তানের মা হন দিয়া মির্জা। ছেলে অভিয়ান আজাদ রেখিকে বড় করার অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েও সন্তানকে এসব মূল্যবোধ শেখানোর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন অভিনেত্রী।
নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিয়ে নানা আলোচনা ও উদ্বেগের মধ্যে দিয়ার এই বক্তব্য নতুন করে সামনে এসেছে। তার বার্তার মূল কথা, শুধু মেয়েদের নিরাপদ থাকার শিক্ষা নয়, ছেলেদেরও ছোটবেলা থেকেই অন্যের ইচ্ছা, সম্মতি ও ‘না’কে সম্মান করতে শেখানো প্রয়োজন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন