প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জন্মস্থান ও পবিত্র শহর মাশহাদে যখন তার সপ্তাহব্যাপী অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া চূড়ান্ত সমাপ্তির দিকে এগোচ্ছে, তখনই ইরানের যোগাযোগব্যবস্থায় এক বড় ধরনের হামলার ঘটনা ঘটে। রাজধানী তেহরানের সঙ্গে মাশহাদের সংযোগকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ রেলসেতুতে মার্কিন বিমান হামলার পর, দুই শহরের মধ্যে সমস্ত ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। এর ফলে, খামেনির শেষ বিদায়ে শামিল হতে মাশহাদের উদ্দেশে রওনা হওয়া লাখো শোকাকুল মানুষ চরম ভোগান্তির মুখে পড়ছেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরআইবি-এর বরাত দিয়ে দেশের রাষ্ট্রীয় রেলওয়ে অপারেটর জানিয়েছে, আক্কালা অঞ্চলের ওই রেলসেতুটিতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কারণে যাত্রীসেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত পথটি মেরামত করার জন্য প্রকৌশলীদের একাধিক দল সেখানে কাজ করছে। ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মাশহাদে গমনাগামী যাত্রীদের বিকল্প হিসেবে সড়কপথে পরিবহনের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছে প্রশাসন।
এদিকে, ইরানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে যে, আয়াতুল্লাহ খামেনির দাফন প্রক্রিয়াকে বিঘ্নিত করতে এবং বিশ্ববাসীর মনোযোগ ভিন্ন খাতে নিতেই ইচ্ছাকৃতভাবে মার্কিন বাহিনী আক্কালার এই রেলসেতুটিতে আঘাত হেনেছে। ইতিমধ্যেই ইরানি গণমাধ্যমে প্রকাশিত এবং সিএনএন কর্তৃক ভূ-স্থানিক অবস্থান নিশ্চিত করা বেশ কিছু ভিডিওতে, আক্কালা-সংলগ্ন ওই রেলসেতুটির ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত রূপ দেখা গেছে।
তবে, এই সুনির্দিষ্ট সেতুটিতে হামলার বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত সরাসরি কোনো দায় স্বীকার করেনি। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের বাহিনী ইরানের উপকূলীয় অঞ্চলে প্রায় ৯০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত হামলা চালিয়েছে। তবে সেই বিবৃতিতে আক্কালার এই রেলসেতুর কোনো উল্লেখ ছিল না।
এ বিষয়ে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে সিএনএন যোগাযোগ করলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। শেষকৃত্যের এই সংবেদনশীল মুহূর্তে, এমন হামলা ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও বেশি উসকে দিল বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
সূত্র: সিএনএন
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন