প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটের অংশ হিসেবে আঞ্চলিক গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথগুলোর সুরক্ষার নিশ্চিত করতে সৌদি রিয়ার অ্যাডমিরাল আবদুল্লাহ বিন সালেম আল-শেহরিকে কমান্ডার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) এক্সে দেওয়া পোস্টে দেশটির সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়েছে যে, জোটের কমান্ডার যৌথ নৌ-প্রতিরক্ষা কার্যক্রমের তদারকি করবেন, সদস্য রাষ্ট্র ও অন্যান্য সামুদ্রিক জোটের সঙ্গে সমন্বয় সাধন করবেন। এছাড়া জোটের সনদের আওতায় বিভিন্ন অভিযান পরিচালনার দায়িত্বও তার উপর থাকবে। মন্ত্রণালয় আরো জানায় যে, আরো অনেক দেশ এই জোটে যোগদানের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য কাজ করছে; এর মধ্যে কিছু দেশ ইতোমধ্যে যৌথ ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেছে এবং অন্যরা প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদানের পূর্বে ঘোষণাপত্র ও সনদে স্বাক্ষরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
জোটটি নিশ্চিত করেছে যে, এটি একটি উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক জোট, যা এর লক্ষ্য ও নীতিমালার সঙ্গে একমত পোষণকারী সব দেশের জন্য সদস্যপদ গ্রহণে স্বাগত জানায়। একই সঙ্গে তারা সদস্যপদ লাভের আবেদন গ্রহণ অব্যাহত রেখেছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যেসব দেশ স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে, তাদের নাম জানিয়ে পরবর্তীতে আরেকটি বিবৃতি প্রকাশ করা হবে।
জোটের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো চূড়ান্ত করার এবং আরও দেশের যোগদানের পথ সুগম করার উদ্দেশ্যে চলতি মাসের ১২-১৩ আগস্ট পরিকল্পনাকারীদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে মন্ত্রণালয় জানায়। উল্লেখ্য, গত ৩০ জুলাই সৌদি আরব এবং আরও ১৩টি দেশ ‘বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট’ গঠনের ঘোষণা দেয়।
এই জোটের মূল লক্ষ্য হলো বাব আল-মান্দেব প্রণালী, লোহিত সাগর এবং এডেন উপসাগরে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ পথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। রিয়াদে আয়োজিত একটি আন্তর্জাতিক বৈঠকের শেষে যৌথ বিবৃতিতে এই ঘোষণা আসে। সেই বৈঠকে ৪৩টি দেশের চিফ অফ স্টাফ ও প্রতিনিধিরা আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক পথের নিরাপত্তা জোরদার ও বৈশ্বিক নৌ-চলাচল ও বাণিজ্যের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট হুমকি মোকাবেলার উপায় নিয়ে আলোচনা করেন।
প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রগুলো জানায়, জোটের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করা প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্রের সার্বভৌম সিদ্ধান্তের অধিকার থাকবে। তারা উল্লেখ করেছে, এই জোটটি প্রকৃতিগতভাবে সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক। এটি কোন নির্দিষ্ট রাষ্ট্র, জোট বা আন্তর্জাতিক সংস্থাকে লক্ষ্য করে গঠিত হয়নি এবং রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আন্তর্জাতিক আইন মেনে কার্যক্রম পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
বিবৃতিতে সৌদি আরবকে জোটের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান রাষ্ট্র এবং এর স্থায়ী সদর দপ্তর হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। যৌথ অভিযান সমন্বয় কেন্দ্র, যৌথ সামুদ্রিক অভিযান কেন্দ্র ও সাধারণ সচিবালয় সৌদি আরবে অবস্থিত হবে।
আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘের কনভেনশন ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত রীতিনীতি মেনে সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার, নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ রুট সুরক্ষিত করা এবং সামুদ্রিক স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যে এই জোটটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত বৈঠকে সামুদ্রিক নিরাপত্তার ক্রমবর্ধমান হুমকির বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যার অন্তর্ভুক্ত ছিল বাণিজ্যিক জাহাজ, তেলবাহী ট্যাঙ্কার ও সামুদ্রিক অবকাঠামোর নিরাপত্তা। অংশগ্রহণকারীরা জোটের খসড়া সনদ, সাংগঠনিক কাঠামো ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করেছেন।
মন্ত্রণালয় বলেছে, জোটের লক্ষ্য হলো বাব আল-মান্দাব প্রণালী, লোহিত সাগর এবং এডেন উপসাগরের মতো বিভিন্ন এলাকায় যৌথ সামুদ্রিক হুমকির মোকাবেলায় সহযোগিতা এবং একটি কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলা। ১৪টি দেশ এই জোট গঠনের সমর্থনে একটি যৌথ বিবৃতি দিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছেঃ সৌদি আরব, তুরস্ক, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, জর্ডান, মিশর, পাকিস্তান, জিবুতি, সোমালিয়া, বাংলাদেশ, ইয়েমেন ও কোমোরোস।
মন্ত্রণালয় জানায়, অন্যান্য দেশের জন্য এই জোটের সনদে যোগ দেওয়ার সুযোগ উন্মুক্ত রয়েছে; তবে সেক্ষেত্রে তাদের নিজস্ব জাতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর ক্রমবর্ধমান হুমকির প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২০ জুলাই ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ‘সামুদ্রিক অবরোধ’ ঘোষণা করে এবং পরবর্তীতে সৌদি-সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর ওপর হামলার দাবি করে। রিয়াদ সামুদ্রিক চলাচল রক্ষা ও আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের বিরুদ্ধে যেকোনো হুমকির উপযুক্ত জবাব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন