প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ব্যালন ডি’অর বিজয়ীদের নাম ঘোষণার জন্য আর এক সপ্তাহও বাকি রয়েছে। ফলে ফুটবল বিশ্বে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা, এবার এই সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কারটি কার হাতে উঠবে তা নিয়ে।
হ্যারি কেইন, লিওনেল মেসি এবং কিশোর প্রতিভা লামিনে ইয়ামালের মতো তারকারা আলোচনার কেন্দ্রে থাকলেও, ব্যালন ডি’অর বরাবরই চমকপ্রদ ফলাফলের জন্য পরিচিত।
আয়োজকদের মতে, পুরস্কার নির্ধারণের ক্ষেত্রে তিনটি বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়:
১. খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স, ম্যাচে প্রভাব তৈরির ক্ষমতা ও ব্যক্তিত্ব
২. দলীয় সাফল্য ও জেতা শিরোপা
৩. খেলোয়াড়সুলভ আচরণ ও ফেয়ার প্লে
২০২৫ সালের ৩ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ১৯ জুলাই পর্যন্ত, অর্থাৎ বিশ্বকাপ ফাইনালের দিন পর্যন্ত সময়ের পারফরম্যান্স এবারের ব্যালন ডি’অরের জন্য বিবেচনা করা হয়েছে।
৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকায় তিন সাবেক বিজয়ী রয়েছেন: আটবারের জয়ী লিওনেল মেসি, বর্তমান চ্যাম্পিয়ন উসমান দেম্বেলে এবং ২০২৪ সালের বিজয়ী রদ্রি।
নিচে দেওয়া হলো ১৯৫৬ সালে পুরুষদের ব্যালন ডি’অর চালুর পর থেকে সবচেয়ে বেশি পুরস্কারজয়ী দেশগুলোর তালিকা:
আর্জেন্টিনা — ৮
লিওনেল মেসি একাই আর্জেন্টিনার সবকটি ব্যালন ডি’অর জিতেছেন। বিশ্বকাপে দলকে রানার্সআপ হিসেবে নিয়ে যাওয়ার পর এবং ইন্টার মায়ামির হয়ে মেজর লিগ সকার শিরোপা জয়ের পর তিনি গত আগস্টে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানান।
৩৯ বছর বয়সী মেসি রেকর্ড আটবার এই পুরস্কার জিতেছেন: ২০০৯, ২০১০, ২০১১, ২০১২, ২০১৫, ২০১৯, ২০২১ ও ২০২৩।
ফ্রান্স — ৮
গত বছরের বিজয়ী উসমান দেম্বেলে ফ্রান্সকে যৌথভাবে সর্বোচ্চ আট ব্যালন ডি’অরের কাতারে নিয়ে গেছেন। ছয়জন ফরাসি খেলোয়াড় মিলে এ অর্জন করেছেন।
এবারের সংক্ষিপ্ত তালিকায় থাকা ফরাসি ফুটবলারদের মধ্যে কিলিয়ান এমবাপে, মাইকেল ওলিসে, উইলিয়াম সালিবা ও দিও উপামেকানো অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
ফ্রান্সের আগের বিজয়ীরা:
রেমন্ড কোপা (১৯৫৮)
মিশেল প্লাতিনি (১৯৮৩, ১৯৮৪, ১৯৮৫)
জ্যঁ-পিয়ের পাপাঁ (১৯৯১)
জিনেদিন জিদান (১৯৯৮)
করিম বেনজেমা (২০২২)
উসমান দেম্বেলে (২০২৫)
পর্তুগাল — ৭
পর্তুগালের সাতটি ব্যালন ডি’অর এসেছে মাত্র তিনজন খেলোয়াড়ের হাত ধরে:
ইউসেবিও (১৯৬৫)
লুইস ফিগো (২০০০)
ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো (২০০৮, ২০১৩, ২০১৪, ২০১৬, ২০১৭) এই পুরস্কারটি পাঁচবার জিতেছেন। তবে তিনি টানা চতুর্থবারের মতো সংক্ষিপ্ত তালিকায় নেই। তবে ব্রুনো ফার্নান্দেস, নুনো মেন্দেস, জোয়াও নেভেস ও ভিতিনিয়া পর্তুগালকে অষ্টম শিরোপা এনে দিতে পারেন।
জার্মানি — ৭
জার্মানির সর্বশেষ বিজয়ী ম্যাথিয়াস সামার (১৯৯৬)। এবারের সংক্ষিপ্ত তালিকায় কোনো জার্মান খেলোয়াড় স্থান পাননি।
বিজয়ীরা:
গার্ড মুলার (১৯৭০)
ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার (১৯৭২, ১৯৭৬)
কার্ল-হেইঞ্জ রুমেনিগে (১৯৮০, ১৯৮১)
লোথার ম্যাথাউস (১৯৯০)
ম্যাথিয়াস সামার (১৯৯৬)
নেদারল্যান্ডস — ৭
নেদারল্যান্ডসের সাতটি পুরস্কার জিতেছেন তিনজন কিংবদন্তি:
ইয়োহান ক্রুইফ (১৯৭১, ১৯৭৩, ১৯৭৪)
রুড গুলিট (১৯৮৭)
মার্কো ফন বাস্তেন (১৯৮৮, ১৯৮৯, ১৯৯২)
এবার ডাচ কোনো খেলোয়াড় সংক্ষিপ্ত তালিকায় নেই।
ব্রাজিল — ৫
ব্রাজিলের প্রথম ব্যালন ডি’অর জেতেন রোনালদো (১৯৯৭)। এরপর দেশটি আরও চারবার এই পুরস্কার জিতেছে।
বিজয়ীরা:
রোনালদো (১৯৯৭, ২০০২)
রিভালদো (১৯৯৯)
রোনালদিনিয়ো (২০০৫)
কাকা (২০০৭)
এবার গ্যাব্রিয়েল, মারকিনিয়োস ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ব্রাজিলকে দুই দশক পর আবার শিরোপা এনে দেওয়ার আশা জাগাচ্ছেন।
ইংল্যান্ড — ৫
১৯৫৬ সালে স্ট্যানলি ম্যাথিউস প্রথম ব্যালন ডি’অর জয়ের পর ইংল্যান্ড আরও চারবার এই পুরস্কার পেয়েছে।
এবার ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি কেইনের ওপর বড় আশা রয়েছে। ক্লাব ও দেশের হয়ে ৭৩ গোল করার পাশাপাশি তিনি বায়ার্ন মিউনিখকে বুন্দেসলিগা জিতিয়েছেন এবং ইংল্যান্ডকে বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থানে তুলেছেন।
ইংল্যান্ডের আগের বিজয়ীরা:
স্ট্যানলি ম্যাথিউস (১৯৫৬)
ববি চার্লটন (১৯৬৬)
কেভিন কিগ্যান (১৯৭৮, ১৯৭৯)
মাইকেল ওউেন (২০০১)
ইতালি — ৫
ইতালির পাঁচটি ব্যালন ডি’অর জিতেছেন পাঁচ ভিন্ন খেলোয়াড়:
ওমর সিভোরি (১৯৬১)
জিয়ান্নি রিভেরা (১৯৬৯)
পাওলো রোসি (১৯৮২)
রবার্তো বাজ্জিও (১৯৯৩)
ফাবিও কানাভারো (২০০৬)
স্পেন — ৪
বিশ্বকাপজয়ী স্পেন এবারও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। লামিনে ইয়ামাল, পাও কুবারসি, মার্ক কুকুরেয়া, রদ্রি, ফাবিয়ান রুইস ও ফেরান তোরেস সংক্ষিপ্ত তালিকায় আছেন।
স্পেনের বিজয়ীরা:
আলফ্রেদো দি স্তেফানো (১৯৫৭, ১৯৫৯)
লুইস সুয়ারেজ (১৯৬০)
রদ্রি (২০২৪)
বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী এবারের অনুষ্ঠানটি শুরু হবে সোমবার রাত ১টায়, লন্ডনের লন্ডন প্যালাডিয়াম থিয়েটারে। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্যারিসের বাইরে বসছে এই আসর।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন