প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে পদস্থগিত উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীরকে ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে কুপিয়ে হত্যার ঘটনার পর তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই ঘটনার সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি চাপাতিও উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলা সদরের কামালপুরে নিজের বাড়ির সামনে এ হত্যাকাণ্ডের শিকার হন তিনি। হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পরে ওই রাতেই ঘটনাস্থল থেকে একজন এবং করিমগঞ্জ উপজেলার বালিখোলা থেকে অপর দুজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন বরগুনা জেলার বামনা উপজেলার চালিতাবুনিয়া গ্রামের মৃত সুলতানের ছেলে মো. হেলাল (২৫), লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার দুধরাজপুর গ্রামের নূর হোসেনের ছেলে মো. মহিউদ্দিন (৩২) এবং একই উপজেলার মধ্যপাড়া গ্রামের রহমত উল্লাহ খোকনের ছেলে মো. শাকিল হোসেন, যিনি শাহীন নামেও পরিচিত (২৫)।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে জেলা পুলিশ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।
পুলিশ সুপার জানান, গ্রেফতারকৃতরা পেশাদার অপরাধী। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের সময় তারা স্বীকার করেছে, পরিকল্পিত এ হত্যাকাণ্ডের জন্য তাদের ঢাকা থেকে ভাড়া করে আনা হয়েছিল। তবে কে অথবা কারা নেপথ্যে থেকে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে এবং এর কারণ কী, তা খতিয়ে দেখার জন্য পুলিশ কাজ করছে।
তিনি আরও জানান, গ্রেফতারদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি হচ্ছে। এ ঘটনায় মিঠামইন থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এদিকে, চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের গ্রেফতার এবং নেপথ্যের কারিগরদের অবিলম্বে আইনের আওতায় আনতে কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ফজলুর রহমান দাবি জানিয়েছেন। একই সাথে দ্রুত সময়ের মধ্যে তিন হত্যাকারীকে গ্রেফতার করায় পুলিশকে ধন্যবাদও জানান তিনি।
ফজলুর রহমান উল্লেখ করেছেন, ‘নিহত জাহাঙ্গীর বিএনপির জন্য একজন নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি দলের জন্য কাজ করে গেছেন। শান্তির হাওরে একজন ভালো মানুষকে ভাড়াটে খুনি দিয়ে হত্যা করা হলো, এটি কিছুতেই মেনে নেয়া যায় না।’
জানা যায়, বুধবার রাতে মিঠামইন বাজারে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীর। যখন তিনি নিজের বাড়ির সামনে পৌঁছান, তখন আগে থেকেই ওঁত পেতে থাকা তিন দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এ সময় সঙ্গে থাকা বিএনপি কর্মী হাদিস মিয়া তাকে রক্ষা করতে গেলে তাকেও কুপিয়ে আহত করা হয়।
তাদের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এলেও হামলাকারীরা পালানোর চেষ্টা করে। তবে ঘটনাস্থল থেকেই চাপাতিসহ একজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে জনতা।
গুরুতর আহত জাহাঙ্গীর এবং হাদিস মিয়াকে প্রথমে মিঠামইন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জাহাঙ্গীরকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত হাদিস মিয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় বিএনপি নেতাদের দাবি, দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত এই নেতাকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ভাড়াটে খুনি দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তারা দ্রুত হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে মিঠামইন বেড়িবাঁধের গাছ কাটার অভিযোগে জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীরের প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলের সব পদ স্থগিত করেছিল বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন