প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি সি-১৭ গ্লোবমাস্টার-৩ উড়োজাহাজ কোস্টারিকায় বিভিন্ন অভিযানে জব্দ করা প্রায় ৪৫ টন কোকেন ধ্বংসের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গেছে। এই বিপুল পরিমাণ মাদক যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়েছে দুই দেশের মাদকবিরোধী সহযোগিতার আওতায়। কোকেনগুলো ইনসিনারেশনের মাধ্যমে ধ্বংস করার পরিকল্পনা রয়েছে ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের ইন্ডিয়ানাপোলিসে রিওয়ার্ল্ড সলিউশন্সের শিল্পকারখানায়।
কোস্টারিকার বিচার বিভাগের নথি অনুযায়ী, ধ্বংসের জন্য পাঠানো মাদকের সঠিক ওজন ৪৪ হাজার ৬৯৭ দশমিক ১৩ কেজি। এটি প্রায় ৪৪ দশমিক ৭ মেট্রিক টন বা ৯৮ হাজার ৬০০ পাউন্ড কোকেন একসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানগুলোর মাধ্যমে এসব মাদক জব্দ করা হয়েছে।
চালানটি কোস্টারিকার আলাজুয়েলায় অবস্থিত এয়ার সার্ভেইলেন্স সার্ভিসের বেস-২ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে পাঠানো হয়। ঘাঁটিটি রাজধানী সান হোসের নিকটবর্তী হুয়ান সান্তামারিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে অবস্থিত। এই অভিযানে কোস্টারিকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ডিইএ) ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক অংশীদার সহযোগিতা করেছে।
কোস্টারিকার বিচার বিভাগ জানিয়েছে, এত বিপুল পরিমাণ মাদক একসঙ্গে ধ্বংস করার মতো সক্ষমতা দেশটির নেই। স্থানীয় ইনসিনারেটরের সীমিত ক্ষমতা এবং মাদক সংরক্ষণের গুদামগুলোর ওপর বাড়তে থাকা চাপের কারণে দ্রুত ও নিরাপদে বড় চালান ধ্বংস করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এছাড়া, বিপুল পরিমাণ কোকেন একসঙ্গে পোড়ানোর ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও পরিবেশগত ঝুঁকির বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
কোস্টারিকার অ্যাটর্নি জেনারেল কার্লো দিয়াজ জানিয়েছেন, বাজেট সীমাবদ্ধতার কারণে দেশে এই পরিমাণ মাদক ধ্বংস করা সম্ভব হচ্ছিল না। যুক্তরাষ্ট্রের সরকার, দেশটির দূতাবাস ও ডিইএর সহযোগিতায় মাদকগুলো যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
মাদক পরিবহনের আগে পুরো চালান গণনা ও যাচাই করে আলাদা করে শনাক্ত করা হয়। এরপর প্যাকেটগুলো সিল ও লেবেল করে প্যালেটে সাজানো হয়। সশস্ত্র নিরাপত্তার মধ্যে সেগুলো বিমানবন্দরের রানওয়েতে নেওয়া হয় এবং সামরিক উড়োজাহাজের কার্গো ডেকে তোলা হয়। পুরো প্রক্রিয়ায় মাদকের ‘চেইন অব কাস্টডি’ অক্ষুণ্ন রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
কোস্টারিকার একটি আদালতের আদেশে চালানটি যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়া ও ধ্বংসের প্রক্রিয়া অনুমোদন করা হয়। নথি অনুযায়ী, ২৫ সেপ্টেম্বর মাদকগুলো যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর কথা ছিল এবং ২৬ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় সকাল ৬টা থেকে ইন্ডিয়ানাপোলিসের রিওয়ার্ল্ড সলিউশন্সের কারখানায় ইনসিনারেশন শুরু করার সময় নির্ধারণ করা হয়।
মাদকের নিরাপদ হস্তান্তর ও ধ্বংসের প্রক্রিয়া সরাসরি তদারকিতে কোস্টারিকার একজন বিচারকও যুক্তরাষ্ট্রে যান। ডিইএর কর্মকর্তাদের পাশাপাশি কোস্টারিকার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং মার্কিন বিমানবাহিনীর লোডমাস্টাররা পরিবহন ও হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় অংশ নেন। যুক্তরাষ্ট্রে ধ্বংসের পর পুরো প্রক্রিয়ার আইনগত নথিপত্র সংরক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা হয়।
বিপুল পরিমাণ মাদক একবারে সরিয়ে নিতে সি-১৭ ব্যবহারের বিষয়টি এ অভিযানে বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। উড়োজাহাজটির বড় কার্গো ধারণক্ষমতার কারণে প্রায় এক লাখ পাউন্ড ওজনের এই চালান একবারে পরিবহন করা সম্ভব হয়েছে। কোস্টারিকার কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সহযোগিতা দুই দেশের মধ্যে মাদকবিরোধী সমন্বয় আরও জোরদারের বিষয়টিও তুলে ধরছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোস্টারিকার মাদকবিরোধী সহযোগিতা সাম্প্রতিক সময়ে আরও জোরদার হয়েছে। গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছিল, কোস্টারিকাকে ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ কোকেন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে পাচারের অভিযোগে এক বড় মাদক পাচারকারীকে কোস্টারিকা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হয়েছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন মামলার নথিতেও কোস্টারিকাকে কোকেন পাচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট রুট হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন