প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পোলাওর চাল ও আটা-ময়দার দাম কমছে না। বিভিন্ন পণ্যের ক্ষেত্রে কেজিতে দাম বেড়েছে ১০ থেকে ২০ টাকা। এরই মধ্যে আদা, রসুন ও লেবুর দাম হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে ক্ষোভ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ক্রেতারা অভিযোগ করছেন, নজরদারি না থাকার কারণে সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো নিত্যপণ্যের দাম বাড়াচ্ছেন।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাজধানীর মিরপুর, কারওয়ান বাজার, শান্তিনগর ও নিউমার্কেট এলাকার বাজার পরিদর্শন করে বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দাম সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেছে।
বাজারে দেখা গেছে, দুই সপ্তাহের ব্যবধানে চীনা আদার দাম কেজিতে বেড়ে গেছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা। ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হওয়া আদা এখন ২০০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে, চীনা রসুনের দাম কেজিতে ৩০ থেকে ৪০ টাকা বেড়ে ১৮০ টাকায় পৌঁছেছে এবং দেশি রসুনের দামও কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়ে ১০০ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। জাতভেদে হালিপ্রতি লেবুর দামও ১৫ থেকে ৩০ টাকা বেড়ে ৩০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
শীতের আগাম সবজি বাজারে উঠতে শুরু করলেও ক্রেতাদের মধ্যে স্বস্তি নেই। সরবরাহ কম থাকায় এসব সবজি কিনতে বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে। পটোল, ঢ্যাঁড়শ, ধুন্দল ৫০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া, ঝিঙা ৬০ থেকে ৮০ টাকা, কচুমুখি ৭০ টাকা, কাঁকড়ল ও বেগুন ৭০ থেকে ৯০ টাকা, করলা ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে। পেঁপে ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং মিষ্টিকুমড়া ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এসব সবজির দাম গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ১০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। তবে শীতের আগাম সবজি শিমের দাম কমলেও তা এখনো ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে শিমের দাম ১৬০ টাকা পর্যন্ত ছিল। আকারভেদে ফুলকপি ৪০ থেকে ৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। ক্রেতাদের টম্যাটো প্রতি কেজি ১৭০ থেকে ২০০ টাকা দিতে হচ্ছে। শান্তিনগর বাজারের সবজি বিক্রেতা বেলায়েত জানিয়েছেন, বাজারে শীতের সবজির সরবরাহ বাড়তে শুরু করায় সবজির দাম কিছুটা কমতির দিকে। তিনি বলেন, "এখন নতুন করে আর সবজির দাম বাড়বে না।"
এদিকে, আটা-ময়দার দাম বাড়ছে। বাজারে খোলা আটা ৪৮ থেকে ৫৫ টাকা এবং প্যাকেটজাত আটা ৬৫ থেকে ৭৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পোলাও চালের দাম ১২০ টাকা কেজি থেকে এক লাফে মানভেদে বেড়ে ১৯০ থেকে ২৩০ টাকা হয়ে গেছে, যা ক্রেতাদের হতবাক করেছে। বাজারে মানভেদে নাজিরশাইল ও মিনিকেট চাল ৭০ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পাইজাম, ব্রি-২৮ ও ব্রি-২৯ চালের দাম ৫৮ থেকে ৬৫ টাকা এবং মোটা চাল ৫০ থেকে ৫৫ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে। টিসিবির হিসাব অনুযায়ী, গত এক মাসে খোলা আটার দাম ২ শতাংশ ও প্যাকেটজাত আটার দাম ৮ শতাংশ বেড়েছে। খোলা ময়দা ও প্যাকেটজাত ময়দার দাম যথাক্রমে ৩ দশমিক ৭০ শতাংশ ও ৬ শতাংশ বেড়ে ৭০ টাকা এবং ৮৫ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ডাল ও মসলার মতো মৌলিক পণ্যগুলো এখনো বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে, ডিমের দাম কিছুটা কমলেও মুরগি, মাছ ও অন্যান্য মাংসের দাম চড়া রয়েছে।
সপ্তাহ দুয়েক আগে ফার্মের মুরগির ডিমের দাম ডজনপ্রতি ১৬০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। পরে ১০ থেকে ১৫ টাকা কমে বর্তমানে প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকায়।
মুরগি ও অন্যান্য মাংসের দামেও তেমন স্বস্তি নেই। বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির দাম ১৮০ থেকে ১৮৫ টাকা এবং সোনালি মুরগি জাতভেদে ৩১০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি গরুর মাংসের দাম ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজারেও ক্রেতাদের বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে। পাঙ্গাশ মাছ কেজি ২২০ থেকে ২৫০ টাকায়, তেলাপিয়া মাঝারি ও বড় সাইজের কেজি ২৪০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া চাষের রুই মাছ প্রতি কেজি ৩৮০ থেকে ৫০০ টাকা এবং কাতল মাছ ৩০০ থেকে ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন