প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফুটবল বিশ্বকাপের অন্যতম সফল দল জার্মানি আসন্ন এই মহাযজ্ঞে খেতাবের জন্য অন্যতম প্রধান দাবিদার হিসেবে মাঠে নামছে। চার বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে তাদের লড়াকু চরিত্র, হারার আগে হাল না ছাড়ার মানসিকতা এবং খুনে মনোভাব বরাবরই প্রতিপক্ষ শিবিরে সমীহ জাগিয়ে চলেছে। ইংল্যান্ডের প্রাক্তন অধিনায়ক গ্যারি লিনেকারের বিখ্যাত মন্তব্য, 'খেলার শেষে সব সময় জার্মানিই জেতে', আবারও স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে অভিজ্ঞতা এবং তারুণ্যে ভরা এই দলটির শক্তির কথা। জুলিয়ান নাগেলসম্যানের কোচিংয়ে, এই জার্মানি যেকোনো দলের বিশ্বজয়ের স্বপ্নে জল ঢেলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে বলে মনে করা হচ্ছে।
জার্মান বাহিনীর এবারের মূল শক্তির উৎস তাদের আক্রমণাত্মক এবং আকর্ষণীয় মাঝমাঠে। জামাল মুসিয়ালা ও ফ্লোরিয়ান উইর্টজের মতো বিশ্বমানের ফুটবলাররা ফাইনাল থার্ডে প্রতিপক্ষের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারেন। নাগেলসম্যান যখন থেকে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন, দলের কৌশলগত বহুমুখিতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছেন। এর ফলে, ফুটবলাররা প্রয়োজন অনুভব করে দ্রুত ফর্মেশন পরিবর্তন করতে সক্ষম হচ্ছেন। মাঠে নিখুঁত পাসিং এবং বলের দখল ধরে রাখতে চেষ্টা করে প্রতিপক্ষের রক্ষণে ফাঁক তৈরি করাই তাদের প্রধান কৌশল। দলের অধিকাংশ ফুটবলার বায়ার্ন মিউনিখ এবং বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের হওয়ায়, মাঠের বোঝাপড়া বেশ ভালো হয়েছে।
তবে শক্তির পাশাপাশি কিছু বড় দুর্বলতাও চার বারের চ্যাম্পিয়নদের ভাবিয়ে তুলছে। প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতে অধিকাংশ খেলোয়াড় সেন্টার লাইনের কাছে উঠে যাওয়ার ফলে, দ্রুতগতির প্রতি-আক্রমণ সামলানোর ক্ষেত্রে তারা বড় সমস্যা তৈরি করছে। এছাড়া, ব্যক্তিগত দক্ষতার উপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা এবং একক চেষ্টায় বাজিমাত করতে যাওয়ার প্রবণতার কারণে মাঝমাঠ এবং রক্ষণের মধ্যে বিপজ্জনক ফাঁক তৈরি হচ্ছে। हालिया সময়ে সুইৎজারল্যান্ড ও ঘানার মতো দলগুলো জার্মানির এই রক্ষণভাগের দুর্বলতা তুলে ধরেছে। পাশাপাশি, গত কয়েকটি বড় প্রতিযোগিতায় নক আউট পর্বের মানসিক চাপের কারণে দ্রুত ছিটকে যাওয়ার যে প্রবণতা দেখা দিয়েছে, তা নাগেলসম্যানের তরুণ ব্রিগেডের জন্য উদ্বেগের বিষয়।
এবারের বিশ্বকাপে, গ্রুপ ‘ই’-তে আইভোরি কোস্ট, ইকুয়েডর এবং কুরাসাওয়ের সঙ্গে মোকাবেলা করবে জার্মানি। গ্রুপ পর্ব থেকে রাউন্ড অফ ৩২ পর্যন্ত তাদের খুব একটা বেগ পেতে হবে বলে মনে করা হলেও, আসল পরীক্ষা শুরু হবে কোয়ার্টার ফাইনালে। জার্মানির সাফল্যের চাবিকাঠি মূলত নির্ভর করবে জামাল মুসিয়ালা, ফ্লোরিয়ান উইর্টজ ও জসুয়া কিমিচের ত্রয়ী পারফরম্যান্স এবং গোলরক্ষক ম্যানুয়েল ন্যুয়েরের অভিজ্ঞতার ওপর। শেষ পর্যন্ত মাঠে ক্লান্তি কাটিয়ে এবং গোল খাওয়ার বদ অভ্যাস ত্যাগ করে, জার্মানি তাদের পঞ্চম বিশ্বকাপ ঘরে তুলতে সক্ষম হবে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন