প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির ভয়াবহ বিপর্যয়ের জন্য ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরান যুদ্ধকে সরাসরি দায়ী করেছেন। এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির বিরুদ্ধে একটি শক্ত অবস্থান গ্রহণ করেছেন।
নির্বাচনে দলের পরাজয়ের পর ভ্যান্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি দীর্ঘ বিবৃতি প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি উল্লেখ করেন যে, রিপাবলিকান সমর্থকদের একটি বড় অংশ এবার ডেমোক্র্যাটদের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। তিনি বলেন, ইরান যুদ্ধ, ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি এবং ইসরায়েলের সঙ্গে মার্কিন সম্পর্কের পরিবর্তন চাওয়ার মনোভাব এই পরিবর্তনের পেছনে প্রধান কারণ।
ভ্যান্সের এই বক্তব্য ট্রাম্পের অবস্থানের সম্পূর্ণ বিপরীত। ট্রাম্প শুরু থেকেই ইরান যুদ্ধের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন, নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে মার্কিন জনগণের উদ্বেগকে উপেক্ষা করেছেন এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নীতিকে সমর্থন করেছেন।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, ভ্যান্স পোস্টটি জনসম্মুখে আনার আগে ট্রাম্পের সঙ্গে শেয়ার করেছিলেন এবং ট্রাম্প এতে ইতিবাচক সায় দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প স্বীকার করেন যে, ভ্যান্সের বিশ্লেষণ অনেকটাই সঠিক। তবে তিনি নিজের সিদ্ধান্তকে সঠিক দাবি করে বলেন, “আমাকে যদি আবার এই সিদ্ধান্ত নিতে হতো, আমি সেটাই করতাম।” ট্রাম্পের ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রও ভ্যান্সের বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে পোস্টটি শেয়ার করেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের উত্তরসূরি হিসেবে ভ্যান্সকে দেখা যেতে পারে। তবে এই বিপর্যয়ের পর তিনি নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য ট্রাম্পের ম্যান্ডেট থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার পথ তৈরি করছেন। এমনকি ট্রাম্প নিজেও ভ্যান্সের প্রার্থিতা নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন, “হয়তো সে প্রার্থী নাও হতে পারে।”
উল্লেখ্য, ব্যক্তিগতভাবে শুরু থেকেই এই যুদ্ধের বিরুদ্ধে থাকা সত্ত্বেও এতদিন প্রকাশ্যে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে আসছিলেন ভ্যান্স। তবে মধ্যবর্তী নির্বাচনে নিজের হোম স্টেট ওহাইওতে সাবেক সেনেট আসনটি ডেমোক্র্যাটদের কাছে হারানোসহ দেশজুড়ে রিপাবলিকানদের বড় পরাজয়ের পর দলের মধ্যকার এই বিভাজন স্পষ্ট রূপ নিল। সূত্র: দি নিউ ইয়র্ক টাইমস।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন