প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বার্সেলোনার সর্বজয়ী গোলরক্ষক ভিক্তর ভালদেস। ছবি: সংগৃহীত
‘আমি যখন অবসর নেব, তখন আমি হারিয়ে যাব। এমন কোথাও চলে যাব, যেখানে কেউ আমাকে খুঁজে পাবে না’—বছর কয়েক আগে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে এমনই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ভিক্তর ভালদেস।
পরে, সত্যিই অনেকটা লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে যান বার্সেলোনার কিংবদন্তি এই গোলরক্ষক।
পেপ গার্দিওলার কোচিংয়ের সময়কালকে বার্সেলোনার সোনালি যুগ মনে করা হয়। সেই দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন ভালদেস। ২০০২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত কাতালান ক্লাবটির হয়ে ৫৩৯টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলেছেন তিনি।
জিতেছেন ছয়টি লা লিগা, তিনটি চ্যাম্পিয়নস লিগসহ অনেক শিরোপা। স্পেনের হয়ে ২০১০ বিশ্বকাপও জিতেছেন।
কিন্তু ক্যারিয়ারের শেষটা ছিল কঠিন। ২০১৪ সালে সেলতা ভিগোর বিপক্ষে ম্যাচে হাঁটুতে গুরুতর চোট পান ভালদেস।
পরে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, স্ট্যান্ডার্ড লিয়েজ ও মিডলসব্রোর হয়ে খেললেও বার্সেলোনার সময়ের সেই ছন্দ আর ফিরে পাননি। ২০১৭ সালে মিডলসব্রো-এর সঙ্গে চুক্তি শেষ হওয়ার পর আর কোনো ক্লাবে যোগ দেননি। এরপর আসে তার সবচেয়ে আলোচিত বিদায়।
২০১৫ সালে কলম্বিয়ার টেলিভিশন চ্যানেল আরসিএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভালদেস ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, অবসরের পর তাকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। তিনি বলেছিলেন, ‘একদিন তো আলো নিভবেই।
আলো নিভে গেলে আমি সন্তানদের সঙ্গে থাকব। তাদের শেখাব, আলো জ্বলে উঠলে কী হতে পারে। কিন্তু আমি তখন আর সেখানে থাকব না। আশা করি, আলো নিভে গেলে আমাকে খুঁজে পাওয়া কঠিন হবে।’
২০১৮ সালের শুরুতে সেই কথারই যেন বাস্তব রূপ দেন ভালদেস। ‘সবকিছুর জন্য ধন্যবাদ’ লিখে ইন্সটাগ্রামের সব ছবি মুছে দেন। বন্ধ করে দেন টুইটার (বর্তমানে এক্স) ও ফেসবুক অ্যাকাউন্টও। কোনো জাঁকজমকপূর্ণ বিদায় অনুষ্ঠান কিংবা দীর্ঘ বক্তব্য ছিল না।
তবে ভালদেস পুরোপুরি ফুটবল থেকে হারিয়ে যাননি। ২০১৯ সালে বার্সেলোনা অনূর্ধ্ব-১৯ দলের কোচ হয়ে ক্লাবে ফিরেছিলেন। কিন্তু কয়েক মাস পরেই তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
বার্সেলোনা ছাড়ার পর ভালদেস মোরাতালাজের যুব দল এবং পরে ইউএ হোর্তার দায়িত্ব নেন। ২০২১ সালের শুরুতে ইউএ হোর্তা ছাড়ার পর দীর্ঘ সময় তাকে কোচিংয়ে দেখা যায়নি।
কিছু সময়ের জন্য কোচিংয়ে ফিরলেও আবার লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে গেছেন ভিক্তর ভালদেস। ছবি: সংগৃহীত
এরপর হঠাৎ করেই ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে আবার ফুটবলে ফেরেন ভালদেস। স্পেনের চতুর্থ স্তরের ক্লাব রিয়াল আভিলা তাকে প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দেয়। কিন্তু দেড় মাসেরও কম সময়ের মধ্যে তিনি রিয়াল আভিলা ছেড়ে চলে যান। এরপর থেকে আবারো উধাও ভালদেস।
ভিক্টর ভালদেস এখন কোথায়? এটাই সবচেয়ে রহস্যময় বিষয়। তিনি কয়েক বছরের জন্য কোথায় হারিয়ে যান, তা কেউ বলতে পারেন না। না সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, না সংবাদমাধ্যম—কোথাও তার সন্ধান মেলে না।
সাম্প্রতি স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমগুলোও ভালদেসকে এমন একজন হিসেবে বর্ণনা করেছে, যাকে জনসমক্ষে খুব কমই দেখা যায় এবং যিনি হঠাৎ ফুটবলে ফিরে আসেন।
ভালদেস কোথায় থাকেন-কী করেন, তা কেউ জানে না। কিছু কিছু সংবাদমাধ্যমের দাবি, তিনি হোয়াটসঅ্যাপও মুছে ফেলেছেন।
ভিক্টর ভালদেসের জীবনের গল্পের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিকই হলো তিনি কখনো আলোচনায় থাকতে চাননি। একসময় তিনি ছিলেন বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় গোলরক্ষক। বার্সেলোনার গোলপোস্টে দাঁড়িয়ে মেসি, জাভি, ইনিয়েস্তা, পুয়োলদের সঙ্গে ইতিহাস গড়েছেন।
কিন্তু অবসরের পর ভালদেসের চাওয়া ছিল একেবারেই ভিন্ন। খ্যাতির আলো নয়, চেয়েছিলেন সাধারণ জীবন।
সত্যিই, আলো নিভে গেলে কাউকে খুঁজে পাওয়া কঠিনই হয়!
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন