প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ প্রোগ্রামের আওতায় দেশের ৬৪টি জেলায় একটি করে পারফর্মিং আর্টস কলেজ গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দিনাজপুরের ঐতিহ্যবাহী দিনাজপুর সংগীত কলেজে এক শিক্ষক সমাবেশে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত হয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ড. এ. এস. এম. আমানুল্লাহ এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি জানান।
সমাবেশে ড. আমানুল্লাহ আপনাদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘একটি জাতির বিকাশ কেবল অর্থনৈতিক অগ্রগতির উপর নির্ভর করে না; এর প্রকৃত ভিত্তি তৈরী হয় সুস্থ সংস্কৃতি, মানবিক মূল্যবোধ, নৈতিক শিক্ষা এবং জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের মাধ্যমে। সুস্থ সংস্কৃতির চর্চা ও গুণগত শিক্ষার সমন্বয়ই পারে একটি মেধাভিত্তিক, মানবিক, অসাম্প্রদায়িক ও বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে।’
শিক্ষার বর্তমান পরিস্থিতি ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে ভিসি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নানা প্রতিবন্ধকতা, মব কালচার, দলীয় কোন্দল ও শিক্ষকদের অপমানজনক পরিস্থিতির মতো সংকট কাটিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শ্রেণিকক্ষে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে এনেছে।
বিশ্ববাজারে টিকে থাকার উপযোগী দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির দিকে জোর দিতে গিয়ে তিনি জানান, প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে বিদেশে যাওয়া কর্মীদের দক্ষ করে গড়ে তোলা একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যগামী কর্মীদের আরবি ভাষা এবং অন্যান্য দেশে গমনকারীদের জন্য মান্দারিন, জাপানি ও কোরীয় ভাষায় প্রশিক্ষণ দিলে রেমিট্যান্স আয়ের পরিমাণ বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব। গালফ রাষ্ট্রগুলো থেকে আসা বর্তমান ১০-১২ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স কর্মীদের ভাষাগত দক্ষতার মাধ্যমে ২৪-২৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
অধ্যাপক ড. এ. এস. এম. আমানুল্লাহ বলেন, আমরা এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা পেয়েছি, যেখানে সংস্কার অত্যন্ত জরুরি। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর শিক্ষা খাতে জাতীয় বাজেটের ২ শতাংশ বরাদ্দ প্রদান নিশ্চিত হয়েছে।
দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা চালুর মাধ্যমেই উচ্চশিক্ষায় আমূল পরিবর্তন আনার সুযোগ রয়েছে।
আলোচনাসভা শেষে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘গ্রিন ক্যাম্পাস’ ও ‘ওয়ান স্টুডেন্ট, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচির আওতায় কলেজ প্রাঙ্গণে একটি বনজ ও একটি ফলদ গাছের চারা রোপণ করেন ভিসি। পরবর্তী সময়ে স্থানীয় শিল্পী ও কলেজের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এক মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পরিবেশনাও অনুষ্ঠিত হয়।
দিনাজপুর সংগীত ডিগ্রি কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি ও হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) শিক্ষক প্রফেসর ড. নওশের ওয়ানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম।
এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মো. মোফাজ্জল হোসেন দুলাল, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহমেদ কচি, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক সমন্বয় দপ্তরের পরিচালক মো. আমিনুল আক্তার, প্রধান প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমান এবং কলেজের অধ্যক্ষ মো. হাছান মাহমুদসহ স্থানীয় শিক্ষাবিদ ও সুধীজন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন