প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
‘ভালো আছি ভালো থেকো, আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো’—প্রিয়জনের কাছে মনের বার্তা পাঠানোর জন্য খামের ওপর ডাকটিকিট ব্যবহার করার দিনগুলো আজ স্মৃতির পটে ভাসছে। কাগজের বুকে আঙুলের স্পর্শ, কালির গন্ধ এবং ডাকপিয়নের ঘণ্টার শব্দের জন্য যে অপেক্ষার আকুলতা ছিল, তা আধুনিক যুগের কোনো খুদে বার্তায় পাওয়া যায় না।
হারিয়ে যাওয়া সেই আবেগ ও হাতের লেখার শিল্পকে স্মরণ করে আজ ১ সেপ্টেম্বর ‘আন্তর্জাতিক চিঠি দিবস’ পালন করা হচ্ছে।
এক সময় মানুষের যোগাযোগের সবচেয়ে বড় ভরসা ছিল চিঠি। শেরশাহর ঘোড়ার ডাক থেকে শুরু করে যুদ্ধক্ষেত্র, বন্ধুত্ব কিংবা প্রেমের মান-অভিমান—সব জায়গায় এই কাগজের চিঠির রাজত্ব ছিল। মুখে না বলতে পারা আবেগ এবং মনের গহিনের কত কথা যে অক্ষরে অক্ষরে জমা থাকত চিঠির মধ্যে! শুধু প্রিয়জনের খবরই নয়, হাতের ছোঁয়ামাখা একটি চিঠির জন্য ডাকপিয়নের পথ চেয়ে থাকার সেই মধুর প্রতীক্ষায় কত ইতিহাস ও স্মৃতি লুকিয়ে ছিল।
ইংরেজি সাহিত্যিক সমারসেট মম যেমনটি বলেছিলেন, আজকের বাস্তবতায় তা সত্যি হতে চলেছে—চিঠি লেখা আসলেই এক হারিয়ে যাওয়া শিল্প। বর্তমানের ব্যস্ত সময়ে মুঠোফোন এবং খুদে বার্তার ভিড়ে চিঠির আবেদন কমলেও, অনুভূতি প্রকাশের জন্য কাগজের গুরুত্ব আজও শেষ হয়ে যায়নি। দাপ্তরিক কাজের ঝক্কি ছাড়া মানুষ এখন আর ডাকঘরে না গেলেও, অন্তরের কথা জানাতে আজও অনেকে চিঠিকেই বেছে নেন।
চিঠি লেখার এই স্মৃতি ও শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে ২০১৪ সাল থেকে অস্ট্রেলীয় লেখক রিচার্ড সিম্পকিনের উদ্যোগে প্রতিবছর ১ সেপ্টেম্বর ‘আন্তর্জাতিক চিঠি দিবস’ পালিত হয়ে আসছে।
নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে তিনি নিজ দেশের খ্যাতনামা ব্যক্তিদের চিঠি পাঠাতেন। সেই উত্তর পাওয়ার আনন্দ তাকে এতটাই অনুপ্রাণিত করেছিল যে, হারিয়ে যাওয়া এই চর্চাকে নতুন প্রজন্মের কাছে ফিরিয়ে আনতেই তিনি দিবসটির প্রচলন করেন। ডিজিটাল যুগে যোগাযোগের হাজারো মাধ্যম এলেও, চিঠির উষ্ণতা ও আবেগ চিরকাল অনন্যই থেকে যাবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন