প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরু থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে মোট ৭৭০ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ৬৭৬ কোটি ৯০ লাখ ডলার। এই হিসাবে দেখা যাচ্ছে, এক বছরে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১৩.৮ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৭ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬— এই তিন দিনে দেশে প্রবাসী আয় এসেছে ১৩ কোটি মার্কিন ডলার। আর ১ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ১৮৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ১৮৬ কোটি ৯০ লাখ ডলার। ফলে সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৯ দিনে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ০.৪ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই রেমিট্যান্স প্রবাহে উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। জুলাই থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ৭৭০ কোটি ২০ লাখ ডলার দেশে এসেছে। গত বছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ৬৭৬ কোটি ৯০ লাখ ডলার। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয় বেড়েছে ৯৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার।
তবে সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ১৯ দিনের হিসাব তুলনা করলে প্রবৃদ্ধির হার তুলনামূলকভাবে কম দেখা যাচ্ছে। গত বছরের একই সময়ে ১৮৬ কোটি ৯০ লাখ ডলারের বিপরীতে এবার এসেছে ১৮৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার। অর্থাৎ, বেড়েছে মাত্র ৮০ লাখ ডলার।
রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে বিবেচিত। এর মাধ্যমে দেশের বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য, আমদানি ব্যয় মেটানোর সক্ষমতা এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। পাশাপাশি, প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ দেশের পরিবারগুলোর ভোগ, সঞ্চয় ও বিনিয়োগেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। চলতি অর্থবছরের প্রথম দিকে রেমিট্যান্সে তুলনামূলক শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি দেখা গেলেও সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৯ দিনে সেই গতি কিছুটা কমেছে। তবে, জুলাই থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সামগ্রিকভাবে ১৩.৮ শতাংশ বার্ষিক প্রবৃদ্ধি বজায় রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ে যেখানে ৬৭৬ কোটি ৯০ লাখ ডলার এসেছিল, সেখানে চলতি অর্থবছরের একই সময়ে এসেছে ৭৭০ কোটি ২০ লাখ ডলার। ফলে চলতি অর্থবছরের এখন পর্যন্ত প্রবাসী আয় প্রবাহ আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর সুযোগ সহজ ও প্রতিযোগিতামূলক রাখা গেলে প্রবাসী আয় আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। ব্যাংকিং চ্যানেলে দ্রুত অর্থ পৌঁছানো, প্রবাসীদের জন্য সেবার মান উন্নয়ন এবং বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর প্রণোদনা রেমিট্যান্স প্রবাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সামগ্রিকভাবে, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রায় তিন মাসে প্রবাসী আয় প্রবাহের ১৩.৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্বস্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৯ দিনের প্রবৃদ্ধি মাত্র ০.৪ শতাংশ হওয়ায় মাসের বাকি সময়ে রেমিট্যান্সের গতি কেমন থাকে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন