প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে মুখে টেপ মারা অবস্থায় যে ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, তিনি গাজীপুরে ফিরছিলেন জমি বিক্রির টাকা নিয়ে। সেই জমি বিক্রি করে মেয়ের বিয়ের জন্য অর্থ সংগ্রহ করতে যাচ্ছিলেন ইসমাইল হোসেন। তার পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, সেই টাকা ‘খোয়া গেছে’ বলে তারা জানাচ্ছেন।
তিনি পথে কোনো একটি স্থানে নিখোঁজ হয়ে যান; পরে শনিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে পুলিশ কর্তৃক দেওয়া খবরে তার স্বজনরা মরদেহ শনাক্ত করেন। খবরটি বিডিনিউজের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
নিহত ব্যক্তির বয়স ৫০ বছর এবং তিনি জামালপুর সদর উপজেলার জালাল উদ্দিনের ছেলে। তার পরিবারের সদস্যরা জানাচ্ছেন, ইসমাইলের একমাত্র মেয়ের বিয়ের প্রস্তুতি চলছিল। সেজন্য জমি বিক্রি করে টাকা নিয়ে গাজীপুরে ফিরছিলেন তিনি। ফিরেই মেয়ের বিয়ের দিন-তারিখ চূড়ান্ত করার পরিকল্পনা ছিল তার।
ইসমাইলের ছেলে হাসান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে বাবার মরদেহ শনাক্ত করেছেন এবং জানিয়েছেন, তার বাবার কাছে ৫ লাখ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিল; যেগুলো ‘পাওয়া যায়নি’ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
গতকাল শুক্রবার সকালে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ওপর থেকে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে। তখন মরদেহের মুখে টেপ মারা ছিল এবং পরনে ছিল অটোরিকশা চালকদের ইউনিফর্মের মতো নীল রঙের শার্ট ও লুঙ্গি।
ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পুরোপুরি নিরাপত্তা ক্যামেরার আওতায়। তবে সেখানে কীভাবে মরদেহটি এলো তা এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ।
বনানী থানার এসআই নজরুল ইসলাম তালুকদার পরে বলেন, আঙুলের ছাপ নিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যভাণ্ডারের সঙ্গে মিলিয়ে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
ইসমাইল একটি কারখানায় সিকিউরিটি গার্ডের কাজ করতেন, কিন্তু ৯ মাস আগে অসুস্থতার কারণে চাকরি ছেড়ে দেন। চাকরি ছাড়ার পরেও গাজীপুরের কাশিমপুর এলাকায় স্ত্রী, দুই সন্তান ও ছেলের বউকে নিয়ে বসবাস করতেন।
কিন্তু চার মাস আগে জামালপুরে গ্রামের বাড়িতে ফিরে যান, যেখানে তার মা ও বড় বোন বাস করেন। হাসান জানান, ‘বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে গাজীপুরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে জামালপুর থেকে রওনা হয়েছিলেন তিনি। রাত ১১টার দিকে বাবা আমাকে ফোনে জানান, সকালে তিনি এসে পৌঁছাবেন। আমার ছোট বোন শারমিনের বিয়ের কথা-বার্তা চূড়ান্ত করতেই বাবা ঢাকায় আসছিলেন। এসেই দিন তারিখ ঠিক করার কথা ছিল।’
মেয়ের বিয়ের জন্য গ্রামের ১১ শতাংশ জমি সাড়ে ১০ লাখ টাকায় বিক্রি করেছিলেন বলেও তথ্য দেন নিহতের ছেলে হাসান। তিনি বলেন, ‘এর মধ্যে আগের ২ লাখ টাকার ঋণ শোধ করেন। কিছু টাকা দিয়ে গ্রামে একটি ঘর দেন। বাকি ৫ লাখ টাকা নগদ নিয়ে এবং কিছু বাজার করে গাজীপুরে আসছিলেন তিনি। সাথে একটি অ্যান্ড্রয়েড ফোন ও একটি বাটন ফোনও ছিল, কিন্তু কিছুই পাওয়া যায়নি।’
সকালে ইসমাইলের গাজীপুরের জিরানীতে নামার কথা ছিল। সেই অনুযায়ী ছেলে সকালে জিরানীতে গিয়ে বাবাকে অনেকবার ফোন দিয়েও বন্ধ পান। পরে বনানী থানা থেকে বিষয়টি জামালপুর পুলিশকে জানানো হয়। সেখান থেকে খবর পেয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে বাবার মরদেহ পান ছেলে।
বনানী থানা পুলিশ জানিয়েছে, লাশটি ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এসআই নজরুল বলেন, ‘আমরা ধারণা করছি তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। এরপর গাড়িতে করে এনে লাশটি ফেলে গেছে।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন