প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ মন্তব্য করেছেন যে, গবাদিপশুকে লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি) থেকে সুরক্ষিত রাখতে দেশীয় প্রযুক্তিতে উদ্ভাবিত ভ্যাকসিন একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তিনি উল্লেখ করেন, এলএসডি ভ্যাকসিন উৎপাদন ও বাজারজাত করতে পারলে বিদেশি ভ্যাকসিনের ওপর নির্ভরতা হ্রাস পাবে, খামারিদের খরচ কমবে এবং টিকার সহজলভ্যতা বৃদ্ধি পাবে।শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার রাইচু ঈদগাঁহ মাঠে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) উদ্ভাবিত এলএসডি ও গোটপক্স ভ্যাকসিনের টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী আরও বলেন, লাম্পি স্কিন ডিজিজ গবাদিপশুর জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর একটি রোগ। যদি কোনো খামারে এ রোগ দেখা দেয়, তবে তা দ্রুত অন্য পশুর মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে, ফলে খামারিরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন।এ কারণে রোগের চিকিৎসার পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে নিয়মিত টিকাদানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। তিনি জানান, দেশে প্রতিবছর প্রায় আড়াই কোটি ডোজ এলএসডি ভ্যাকসিনের প্রয়োজন হয়। এতদিন এই টিকার জন্য বিদেশি উৎসের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে। বর্তমানে দেশের বিজ্ঞানীরা এলএসডি ভ্যাকসিন উদ্ভাবনের উদ্যোগ নিয়েছেন।দেশীয় প্রযুক্তিতে উৎপাদিত এই ভ্যাকসিন বাজারজাত করা সম্ভব হলে একদিকে খামারিদের খরচ কমবে, অন্যদিকে প্রাণিসম্পদ খাতের সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে। মন্ত্রী খামারিদের উদ্দেশ্যে বলেন, গবাদিপশুকে রোগমুক্ত ও উৎপাদনক্ষম রাখতে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী টিকা দিতে হবে। একটি পশু আক্রান্ত হলে তা দ্রুত অন্য পশুর মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। এজন্য খামার পর্যায়ে স্বাস্থ্যবিধি ও রোগ প্রতিরোধে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।গবাদিপশুর খাদ্য উৎপাদন ব্যয় কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, বিএলআরআই উদ্ভাবিত নতুন উচ্চ পুষ্টিমানসম্পন্ন ঘাসে প্রায় ১৮ শতাংশ প্রোটিন রয়েছে।এই ঘাস চাষের মাধ্যমে কম খরচে উন্নতমানের পশুখাদ্য উৎপাদন করা সম্ভব। এতে দানাদার খাদ্যের ওপর খামারিদের নির্ভরতা কমবে এবং উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে। ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণে সরকার নতুন কর্মসূচি গ্রহণ করছে। এই কর্মসূচির আওতায় ইউনিয়নভিত্তিক উদ্যোক্তা তৈরি, প্রশিক্ষণ, উন্নত জাতের ছাগল সরবরাহ ও বিপণন সহায়তা প্রদান করা হবে। এতে নারী ও যুব উদ্যোক্তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।তিনি আরও বলেন, ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রাণিসম্পদ সম্পদ। এই জাতের ছাগলের মাংস ও চামড়ার আন্তর্জাতিক বাজার রয়েছে। বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পিত সম্প্রসারণের মাধ্যমে এই খাত গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করার পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও রপ্তানি আয় বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএলআরআইয়ের মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান।এ সময় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও বিএলআরআইয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল কাইয়ুম, সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম রায়হান, জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি তাজুল ইসলামসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং বিপুলসংখ্যক খামারি উপস্থিত ছিলেন।কর্মসূচির আওতায় কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার গবাদিপশুর মধ্যে বিএলআরআই উদ্ভাবিত ২ হাজার ডোজ এলএসডি এবং ১০০ ডোজ গোটপক্স ভ্যাকসিন প্রয়োগের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সার্বিক সহযোগিতায় এ টিকাদান কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন