প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে ইরানের ২০ থেকে ৩০টি উড়োজাহাজ ধ্বংস হয়েছে। যুদ্ধের সময় দেশটির ৭০ থেকে ৮০টি উড়োজাহাজ হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিল।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) ইরান এয়ারের প্রধান নির্বাহী তাহের আবদোলহাই এই তথ্য প্রকাশ করেন। আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
সংবাদ সম্মেলনে আবদোলহাই উল্লেখ করেন, ইরানের বিমান চলাচল খাতের চাহিদা পূরণের জন্য প্রায় এক হাজার যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে দেশটির বিমান বহরে ৩০০টির মতো উড়োজাহাজ রয়েছে।
তিনি জানান, যুদ্ধ শুরুর পূর্বে উড়োজাহাজগুলোর মধ্যে ১৩০ থেকে ১৪০টি সচল ছিল। সংঘাত চলাকালে ২০ থেকে ৩০টি উড়োজাহাজ ধ্বংস হয়ে গেছে।
ইরানের জাতীয় বিমান সংস্থা ইরান এয়ার, যা ‘হোমা’ নামেও পরিচিত, এর প্রধান দাবি করেন, ইসরাইলের হামলায় তাদের উড়োজাহাজ বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্য কয়েকটি সংস্থার উড়োজাহাজে একটি করে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলেও ইরান এয়ারের একটি উড়োজাহাজ সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়েছে বলে তিনি জানান।
আবদোলহাই আরও বলেন, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং বিভিন্ন বিধিনিষেধের কারণে ইরান এয়ারের কার্যক্রম ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়েছে। এর ফলে সংস্থাটির সচল উড়োজাহাজের সংখ্যা কমেছে এবং লাভজনক আন্তর্জাতিক রুটে চলাচলের সুযোগও সীমিত হয়ে পড়েছে।
বিমান সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী জানান, উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশ সংগ্রহে জটিলতা, আর্থিক সংকট এবং কর্মীসংক্রান্ত নানা সমস্যা তাদের কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি আরো জানান, ইরান এয়ারে ৯ হাজারের বেশি কর্মী রয়েছেন। সচল উড়োজাহাজের সংখ্যা কমে যাওয়ায় সংস্থাটির দক্ষতা ও কার্যকারিতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।
ইরান এয়ারকে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাবের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন আবদোলহাই। তিনি মনে করেন, এই জাতীয় বিমান সংস্থা শুধুমাত্র বাণিজ্যিক পরিবহন সেবা প্রদান করে না; বরং দেশটির কৌশলগত জাতীয় স্বার্থ রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
অতএব, সংস্থাটির ভবিষ্যৎ নির্ধারণের ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক লাভের পাশাপাশি জাতীয় স্বার্থকেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধের ফলে ইরানের সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা দেশটির বিমান চলাচল খাতকে চাপের মধ্যে রেখেছে।
২০১৮ সালে ইরানের সঙ্গে করা পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে দাঁড়ানোর পর আবারও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এর ফলে বোয়িং ও এয়ারবাসের কাছ থেকে উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা ব্যাহত হয়েছে। প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ ও রক্ষণাবেক্ষণ সেবার অভাবে কিছু উড়োজাহাজ স্থগিত রাখতে হয়েছে, এবং পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বেড়ে গেছে।
তথ্যসূত্র: আনাদোলু
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন