প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নেত্রকোনার স্বনামধন্য ও ঐতিহ্যবাহী এন আকন্দ কামিল (স্নাতকোত্তর) মাদরাসায় এক ছাত্রীর সঙ্গে শ্রেণিকক্ষে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়ানোর অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। মো. এহসানুল হক নামের ওই শিক্ষককে প্রতিষ্ঠান থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে আপত্তিকর অবস্থার দৃশ্য ধরা পড়ার পর তাঁকে মাদরাসা ক্যাম্পাসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। পরে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন।
মাদরাসা কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, শিক্ষক এহসানুল হক প্রায় আট বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটির অনার্স শাখায় নন-এমপিও প্রভাষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
মাদরাসার অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আব্দুল বাতেন মঙ্গলবার বিকেলে বলেন, গত ২০ আগস্ট শিক্ষকদের একটি সভা চলাকালে কয়েকজন শিক্ষক সিসিটিভি ক্যামেরার মনিটরে একটি কক্ষে এক শিক্ষক ও বোরকা পরা এক নারীকে দেখতে পান। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তাঁরা ফুটেজটি পর্যবেক্ষণ করেন। পরে এহসানুল হককে ডেকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়। প্রথমে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও ফুটেজ দেখানোর পর নিজের ভুল স্বীকার করে সহকর্মীদের কাছে ক্ষমা চান বলে জানান অধ্যক্ষ।
অধ্যক্ষ বলেন, ঘটনার কয়েক দিন পর ২৬ আগস্ট তাঁকে সিসিটিভি ফুটেজের ডাউনলোড করা ভিডিও দেখানো হয়। বিষয়টি জানার পর তিনি অনার্স বিভাগের চেয়ারম্যানকে ডেকে অভিযুক্ত শিক্ষককে মাদরাসায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে তাঁর ব্যবহৃত কক্ষের তালা পরিবর্তন করা হয় এবং ক্যাম্পাসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।
পরে ১ সেপ্টেম্বর মো. এহসানুল হক পদত্যাগপত্র জমা দেন। অধ্যক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, এরপর শিক্ষকদের নিয়ে জরুরি সভা করে তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ এবং প্রতিষ্ঠান থেকে তাঁকে স্থায়ীভাবে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
অধ্যক্ষ আরও বলেন, বিষয়টি মাদরাসার গভর্নিং বডি এবং জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে।
তবে ওই ঘটনায় জড়িত বলে ধারণা করা ছাত্রীর পরিচয় এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি মাদরাসা কর্তৃপক্ষ। অধ্যক্ষের ধারণা, তিনি অনার্স অথবা মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষার্থী হতে পারেন। বিষয়টি নিয়ে ওই শিক্ষার্থী বা তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে নেত্রকোনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মুন মুন জাহান লিজা বলেন, বিষয়টি জানার পর মাদরাসার অধ্যক্ষসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ওই ছাত্রীকে শনাক্ত করতে পারেননি। তিনি বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষককে তদন্ত বা বিচারের মুখোমুখি না করে চাকরি থেকে বিদায় করে দেওয়া দুঃখজনক ও কাম্য নয়। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অধ্যক্ষকে বলা হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষককে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এন আকন্দ কামিল মাদরাসায় এমন অভিযোগের ঘটনায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় মানুষের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা।
প্রতিবেদকের নোট: অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মো. এহসানুল হকের বক্তব্য এই প্রতিবেদনের তথ্যের মধ্যে পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন