প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গত মৌসুমে ইংলিশ ফুটবলের মোট আয় ছিল ৯০০ কোটি পাউন্ড। প্রিমিয়ার লিগের বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তার ফলস্বরূপ এই বিপুল পরিমাণ আয় হয়েছে। কিন্তু এই আয়ের বিশাল পরিমাণের আড়ালে রয়েছে গভীর আর্থিক সংকট। বেশিরভাগ পেশাদার ফুটবল ক্লাব বর্তমানে আর্থিক বিপর্যয়ের কিনারায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। মালিকরা যদি অর্থের জোগান বন্ধ করে দেন, তাহলে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ক্লাব এক মাসেরও কম সময় টিকতে পারবে।
ইংল্যান্ডের নতুন স্বাধীন ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা (আইএফআর) প্রকাশিত ‘স্টেট অব দ্য গেম’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এমন উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫-২৬ মৌসুমে ইংল্যান্ডের শীর্ষ পাঁচ স্তরের ৯৪ শতাংশ ক্লাব লোকসানে রয়েছে। গত মৌসুমে ইংলিশ ফুটবলের মোট আয় ৯০০ কোটি পাউন্ড হলেও, ক্লাবগুলো আর্থিক সংকটের মধ্যে রয়েছে।
ইংলিশ ফুটবলে যে মাত্রার আর্থিক ঝুঁকি স্থায়ীভাবে জায়গা করে নিয়েছে, তা মোকাবিলায় আর সময় নষ্ট করার সুযোগ নেই। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় সব ক্লাবই টিকে থাকার জন্য মালিকদের অর্থের ওপর নির্ভরশীল। দুই-তৃতীয়াংশ ক্লাব জানিয়েছে, মালিকরা যদি হঠাৎ অর্থ দেওয়া বন্ধ করে দেন, তাহলে তারা ৯০ দিনের বেশি টিকতে পারবে না। আর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ক্লাবের অবস্থা আরও ভয়াবহ, তাদের হাতে সময় থাকবে সর্বোচ্চ এক মাস।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার মতে, ইংলিশ ফুটবল বর্তমানে ‘ঝুঁকিতে ঠাসা এক খেলা’। বিশেষ করে চ্যাম্পিয়নশিপ, লিগ ওয়ান ও লিগ টুর ক্লাবগুলো প্রিমিয়ার লিগের বিপুল অর্থের নাগাল পেতে সামর্থ্যের বাইরে খরচ করছে। এর ফলে ঋণের বোঝা বাড়ছে এবং অস্তিত্বের সংকট তৈরি হচ্ছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শেফিল্ড ওয়েনসডে, ডার্বি কাউন্টি, রিডিং ও উইগানের মতো ক্লাব আর্থিক সংকটে পড়েছে। ঋণের চাপে ২০১৯ সালে বিলুপ্ত হয়েছে বুরি, পরের বছর ম্যাকলসফিল্ড টাউনও।
আইএফআরের চেয়ারম্যান ডেভিড কোগান ও প্রধান নির্বাহী রিচার্ড মঙ্কস প্রতিবেদনে লিখেছেন, ‘ইংলিশ ফুটবলে যে মাত্রার আর্থিক ঝুঁকি স্থায়ীভাবে জায়গা করে নিয়েছে, তা মোকাবিলায় আর সময় নষ্ট করার সুযোগ নেই।’
২০২৭ সালের শুরুতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে। এর আগে প্রিমিয়ার লিগ ও ইংলিশ ফুটবল লিগকে (ইএফএল) রাজস্ব বণ্টনের নতুন চুক্তিতে পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। সমঝোতা না হলে নিজেদের ক্ষমতা প্রয়োগের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
প্রিমিয়ার লিগ আগামী ১০ বছরে নিম্নস্তরের ক্লাবগুলোকে দেওয়া আর্থিক সহায়তা দ্বিগুণ করার প্রস্তাব দিয়েছে। আলোচনা এখনও চলছে।
ফুটবল সমর্থকদের সংগঠন ফুটবল সাপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান টম গ্রেটরেক্স এই প্রতিবেদনকে ইংলিশ ফুটবলের জন্য ‘বিপৎসংকেত’ বলে অভিহিত করেছেন।
ব্রিটেনের সংস্কৃতিমন্ত্রী লিসা ন্যান্ডির বক্তব্যও তাৎপর্যপূর্ণ, ‘এই ক্লাবগুলো সমর্থকদের। সমর্থকদের ছাড়া এগুলোর কোনো অস্তিত্ব নেই।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন