প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের দক্ষিণী চলচ্চিত্রের শীর্ষ অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণান এবং তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়কে কেন্দ্র করে চলমান বিতর্কিত মন্তব্যের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী ও সংসদ সদস্য কঙ্গনা রানাওয়াত। সম্প্রতি হিমাচল প্রদেশের মান্ডির এই বিজেপি সংসদ সদস্য, তৃষার প্রতি তার পূর্ণ সমর্থন প্রকাশ করেছেন, যদিও তিনি কোনো নারীর নাম সরাসরি উল্লেখ করেননি।
হিমাচলের কুল্লুতে জেলা উন্নয়ন সমন্বয় ও পর্যবেক্ষণ কমিটির (দিশা) বৈঠকে সভাপতিত্ব করার পর সাংবাদিকদের সামনে এসে কঙ্গনা মন্তব্য করেন যে, সমাজে নারীদের সব সময় কটূক্তি ও চরিত্রহননের প্রধান লক্ষ্য বানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সাম্প্রতিক বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে কঙ্গনা বলেন, "আপনারা তামিলনাড়ুতে যা ঘটেছে তা দেখেছেন, যেখানে একজন অত্যন্ত সম্মানিত শিল্পী ও অভিনেত্রীকে এমন একটি বিষয়ে জড়ানো হয়েছে যেখানে বিষয়টি ছিল উভয়পক্ষের সম্পর্কের।" তিনি আরও যোগ করেন, "কিন্তু যখনই গালিগালাজ বা চরিত্রহননের প্রশ্ন আসে, তখন সব সময় কেবল নারীকেই লক্ষ্যবস্তু করা হয়।" কঙ্গনা এই মানসিকতা কেবল ভারতে সীমাবদ্ধ নয়, বরং বিশ্বজুড়েই বিদ্যমান বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, "যেসব কর্মজীবী নারী সমাজে সফল, যারা অভিনেত্রী, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব কিংবা ক্ষমতাবান ও দায়িত্বশীল পদে অধিষ্ঠিত—তাদের সম্মানহানি করে নিচে নামিয়ে আনার জন্যই এমন কুৎসিত আক্রমণ চালানো হয়।"
এর আগে, তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয় নারীদের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের অবমাননাকর মন্তব্যকারীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। বিজয়ের সেই কড়া বার্তা এবং উদয়নিধি স্ট্যালিনের বিতর্কিত বক্তব্যের কয়েক সপ্তাহ পরে কঙ্গনার এই শক্তিশালী বক্তব্য রাজপথ থেকে বিনোদনজগতে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
বিতর্কের মূল সূত্রপাত হয়েছিল কাবেরী পানি বণ্টন বিরোধ ও কর্ণাটকের প্রস্তাবিত মেকেদাতু প্রকল্পের প্রতিবাদে থানজাভুরে ডিএমকের আয়োজিত একটি কর্মসূচিতে। সেখানে বক্তব্য রাখার সময় ডিএমকে নেতা উদয়নিধি স্ট্যালিন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী বিজয়কে নিশানা করে তামিল ভাষায় একটি দ্বি-অর্থবোধক মন্তব্য করেন, যার অর্থ দাঁড়ায়—যেখানেই পানি আসুক, আসুক বা না আসুক, পানি সেখানে আসা উচিত। পরিস্থিতি ঘোলাটে দেখে তিনি সঙ্গে সঙ্গেই স্পষ্ট করে দেন যে তিনি কাবেরীর পানি সম্বন্ধেই কথা বলছিলেন। কিন্তু ততক্ষণে তার মন্তব্য রাজনৈতিক ও সামাজিক মাধ্যমে বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দেয়।
ক্ষমতাসীন তামিলগা ভেট্রি কাজাগাম (টিভিকে) দল উদয়নিধির বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে একজন নারীকে বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করা এবং চরম অবমাননাকর উক্তি করার অভিযোগ তোলে। এর প্রতিবাদে তোলপাড় শুরু হলে গত ৪ আগস্ট চেন্নাইয়ের নিজ বাসভবন থেকে গ্রেফতার হন উদয়নিধি স্ট্যালিন। তার মন্তব্যের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর তাকে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয় এবং পরবর্তীতে তিনি জামিনে মুক্তি পান।
সূত্র: মিড-ডে
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন