প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসির একটি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় একটি নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্রিস্টা পাইককে দুই দফা প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার পরও মৃত্যু ঘটেনি।
পাইককে পরে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। টেনেসির গভর্নর বিল লি ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতির কারণ অনুসন্ধান করা যায়। স্থানীয় সময় বুধবার রাত ৮টায় ন্যাশভিলের রিভারবেন্ড ম্যাক্সিমাম সিকিউরিটি ইনস্টিটিউশনে পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা করা হয়।
পাইকের আইনজীবী জানিয়েছেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানায়, পাইককে রাসায়নিক পেন্টোবারবিটালের দুটি ডোজ দেওয়া হয়। এই সময় প্রত্যক্ষদর্শীদের জন্য নির্ধারিত কক্ষের পর্দা দুইবার বন্ধ করা হয় এবং গণমাধ্যমকর্মীদেরও সেখান থেকে চলে যেতে বলা হয়।
সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় পাইকের আইনজীবীরা জরুরি ভিত্তিতে কার্যক্রম বন্ধের আবেদন করেন। তারা জানান, পাইক অচেতন হয়ে পড়েছেন, তবে তার হৃদস্পন্দন রয়েছে এবং তিনি নাক ডাকছেন।
পাইকের একজন আইনজীবী বিবিসিকে জানান, ৫০ বছর বয়সী পাইককে হাসপাতালে জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এর আগে, ১৯ বছর বয়সী কোলিন স্লেমারকে হত্যার দায়ে ১৯৯৬ সালে পাইককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তখন তার বয়স ছিল ১৮ বছর। তৎকালীন প্রেমিক ট্যাডারিল শিপের সঙ্গে মিলে তিনি স্লেমারকে মারধর, নির্যাতন ও হত্যা করেন। স্লেমারের সঙ্গে তাদের পরিচয় হয়েছিল সমস্যাগ্রস্ত কিশোর-কিশোরীদের জন্য একটি কর্মপ্রশিক্ষণ শিবিরে।
পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আইনি লড়াই চলছিল। যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট শেষ পর্যন্ত প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার মাধ্যমে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অনুমতি দেয়।
এপি জানায়, টেনেসির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রটোকল অনুযায়ী, প্রথম দফার ওষুধ দেওয়ার পর বন্দি মারা না গেলে দ্বিতীয় দফায় দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত ওষুধের সিরিঞ্জ প্রস্তুত রাখা হয়। তবে দ্বিতীয় দফা দেওয়ার পরও যদি বন্দি জীবিত থাকে, সে বিষয়ে প্রটোকলে কিছু বলা হয়নি।
মার্কিন গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে টেনেসির গভর্নর বিল লি বলেন, ঠিক কী ঘটেছিল তা নির্ধারণ করতে তিনি একটি সমন্বিত, তৃতীয় পক্ষের পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জানান, এ বছর নির্ধারিত সর্বশেষ মৃত্যুদণ্ড আর কার্যকর করা হবে না।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন