প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঈদ-পরবর্তী সময়ে শেরপুর জেলার বিভিন্ন স্থানে যাত্রীবাহী বাস এবং সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভাড়া নৈরাজ্য নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে জেলা প্রশাসন। এই অভিযান চলমান রয়েছে শুক্রবার বিকেল থেকে সোমবার (১ জুন) বিকেল পর্যন্ত জেলার বাসস্ট্যান্ড এবং সিএনজি স্টেশনগুলোতে। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, যেখানে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে অথবা কোনো আলামত খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে, সেখানেই ভ্রাম্যমাণ আদালত জরিমানা কার্যক্রম শুরু করছে এবং কিছুটা কম গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে সতর্কতা জারি করা হচ্ছে। সেইসাথে যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করা অতিরিক্ত ভাড়া ফেরত দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। গত তিন দিনের মধ্যে জেলা প্রশাসন অন্তত ৫০টি স্থানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছে। জেলা শহরের নতুন বাসস্ট্যান্ড, খোয়ারপাড়া মোড়, থানা মোড়, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, নবীনগর, নিউমার্কেট এবং রঘুনাথ বাজার এলাকায় প্রতিদিন দুই থেকে তিনবার অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এই অভিযানের ফলে ভাড়া সিন্ডিকেটের অপ্রতিযোগিতার কিছুটা হ্রাস হলেও তা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি এমন প্রতিবেদন পাওয়া যাচ্ছে। অতিরিক্ত জেলার নকলা, নালিতাবাড়ী, শ্রীবরদী এবং ঝিনাইগাতী উপজেলাতেও একই ধরনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অভিযানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকারী কর্মকর্তারা শতাধিক বাস ও সিএনজিচালকের সঙ্গে প্রত্যক্ষ যোগাযোগ করেছে। প্রশাসন জানিয়েছে, অভিযান চলাকালীন ৫০ হাজার টাকার বেশি জরিমানা আদায় করা হয়েছে। রবিবার দুপুরে ঝিনাইগাতী উপজেলার পাগলার মুখ, তেঁতুলতলা, জোলগাঁও এবং কালিবাড়ি বাজারের সামনে বিভিন্ন পরিবহনের বাস কাউন্টারে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছেন ঝিনাইগাতী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অনিন্দিতা রানী ভৌমিক। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানিয়েছে, ঈদের ছুটি শেষ হওয়ার পর ঢাকাসহ বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াতকারী যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অধিক অর্থ আদায় করার অভিযোগ এসেছিল। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত বিভিন্ন বাস কাউন্টারে অভিযান চালিয়ে অনিয়মের সত্যতা পেয়েছে। তবে প্রশাসনের ধারাবাহিক অভিযানের কারণে ভাড়া নৈরাজ্য কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। অভিযোগ পেলেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে প্রশাসন জানায়। অভিযানের সাফল্যে থানা-পুলিশের সদস্য এবং উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সহযোগিতা করছেন। শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াছমিন জানিয়েছেন, ভাড়া বেশি নেওয়া, যাত্রীদের ভোগান্তি এবং হয়রানি রোধে নিয়মিত তদারকি এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, শুধু শাস্তির মাধ্যমে সমাধান হবে না, সচেতনতা জরুরি। জরিমানার পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম হওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘আইনের বিধান অনুসরণ করে সহনীয় মাত্রায় জরিমানা করা হচ্ছে।’ তিনি এও নিশ্চিত করেছেন যে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন