প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশ সরকার সউদী আরব ও কাতারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্য রাখে।
এই লক্ষ্যে, সউদী আরবের রাজধানী রিয়াদে অনুষ্ঠিত 'ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি ফোরাম-১৭'-এর সাইডলাইনে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সউদী আরবের বিদ্যুৎবিষয়ক সহকারী মন্ত্রী, কাতারের জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি প্রতিষ্ঠান 'এ্যাকুয়া পাওয়ার' (ACWA Power)-এর প্রধান নির্বাহীর সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন।
রোববার (১১ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি চাহিদা পূরণ, এলএনজি আমদানি, গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সউদী আরবের বিদ্যুৎবিষয়ক সহকারী মন্ত্রী নাসের আল-কাহতানির সঙ্গে বৈঠকের শুরুতে, রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতি বিদ্রোহীদের হামলায় নিহতদের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেন বাংলাদেশের জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী। তিনি সউদী সরকার ও জনগণের প্রতি বাংলাদেশ সরকারের সংহতি প্রকাশ করেন এবং হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশির লাশ দেশে পাঠানো ও আহতদের চিকিৎসার জন্য সউদী সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।
বৈঠকে, সউদী আরবের সহযোগিতা বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাওয়ার কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। সউদী মন্ত্রী জবাবে বলেন, ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সব সময় সউদী আরবের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। তিনি বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সউদী সরকারের চলমান সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সউদী আরবের সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। এ লক্ষ্যে, দুই দেশের মধ্যে প্রতিনিধিদল বিনিময় এবং সহযোগিতার একটি কাঠামো প্রতিষ্ঠার বিষয়ে আলোচনা হয়। দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সহযোগিতা, ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন এবং সমুদ্র ও স্থলভাগে গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেন তিনি।
অন্যদিকে, কাতারের জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এবং কাতার এনার্জির (QatarEnergy) প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাদ শেরিদা আল-কাবির সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান গ্যাসের চাহিদা ও এলএনজি আমদানির বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
বৈঠকে, বিদ্যমান এলএনজি আমদানি ব্যবস্থা পর্যালোচনা এবং নতুন দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। কাতার এনার্জির আন্তর্জাতিক কার্যক্রমের আওতায় বাংলাদেশে এলএনজি সরবরাহ বৃদ্ধি এবং জ্বালানি আমদানির উৎস ও সরবরাহপথ বহুমুখীকরণের বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে। দুই দেশের জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বাণিজ্যিক ও কারিগরি পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
দিনের তৃতীয় বৈঠকে, সউদী আরবভিত্তিক আন্তর্জাতিক জ্বালানি প্রতিষ্ঠান 'এ্যাকুয়া পাওয়ার'-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. সামির জে সেরহানের সঙ্গে বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। বৈঠকে, বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের বিষয়ে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করে এ্যাকুয়া পাওয়ার। উভয় পক্ষের মধ্যে ভবিষ্যৎ সহযোগিতা ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
এসব বৈঠকের মাধ্যমে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার, এলএনজি সরবরাহের নতুন সুযোগ সৃষ্টি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের পথ আরও সুগম হতে পারে। বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সদস্য এবং সউদী আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন