প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের(বিসিবি) সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কাছে অর্থায়ন স্থগিত করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বোর্ডের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, আমিনুল চলতি সপ্তাহে আইসিসির কাছে প্রায় ১৪ পৃষ্ঠার একটি চিঠি জমা দিয়েছেন।
চিঠিতে তিনি বিসিবির সভাপতি হিসেবে নিজের পদ পুনর্বহালের দাবি জানান। তিনি বর্তমান প্রশাসনের কোনো আইনি ভিত্তি নেই—এমন যুক্তি দেখিয়ে বোর্ডকে আর্থিক সহায়তা প্রদান থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেন।
পাকিস্তানের সংবাদমমাধ্যম জিও সুপার এ ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য নিশ্টিত করেছে। সূত্রটি জানিয়েছে, হ্যাঁ, আমিনুল বাংলাদেশের জন্য অর্থায়ন স্থগিত করার আবেদন করেছেন আইসিসির কাছে। আইসিসি এ বিষয়ে বিসিবিকে অবহিত করেছে। সূত্রটি আরও জানায়, আইনি দলের সঙ্গে পরামর্শের পর বিসিবি আইসিসির কাছে তাদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
তবে, এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য আমিনুলের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তার কাছে চিঠি এবং অবস্থান সম্পর্কে ব্যাখ্যা চেয়ে পাঠানো টেক্সট মেসেজের কোনো উত্তর আসেনি।
একটি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আগের বিসিবি নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে ৭ এপ্রিল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ(এনএসসি) আমিনুল-নেতৃত্বাধীন বোর্ড ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ১১ সদস্যের একটি অ্যাডহক কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালকে নিয়োগ দেওয়া হয়।
চলতি মাসের ৭ জুন অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তামিম বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চার বছরের মেয়াদে বিসিবি সভাপতি নির্বাচিত হন। একটি তদন্তে আমিনুল ও বোর্ডের কয়েকজন সদস্যের দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়ার পর আগের নির্বাচিত বোর্ড ভেঙে দিয়ে সরকার এই নির্বাচনের নির্দেশ দেয়।
গত বছরের বিসিবি নির্বাচন নিয়ে তদন্তের জন্য তামিম অনুরোধ জানিয়েছিলেন, তখন এনএসসি এই তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছিল। তিনি দাবি করেছিলেন, রাজধানীর ৭৬টি ক্লাবের মধ্যে ৫০টি এই উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এনএসসি আমিনুলকে তার পদ থেকে অপসারণ করে।
এনএসসি ফারুক আহমেদের কাউন্সিলর পদ বাতিল করে তার বিসিবির সভাপতির পদ হারান। আমিনুল ইসলাম তার স্থলাভিষিক্ত হন। বিসিবির দায়িত্ব নেওয়ার আগে আমিনুল আইসিসি-র ডেভেলপমেন্ট অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। একটি স্বচ্ছ নির্বাচনী প্রক্রিয়া তদারকির লক্ষ্যে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আহ্বানে সাড়া দিয়ে তিনি বাংলাদেশে ফিরে এসেছিলেন।
নির্বাচনের পর আইসিসিতে ফিরে যাওয়ার প্রাথমিক ইচ্ছা থাকলেও, পরবর্তীতে আমিনুল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি জানিয়েছেন, নিজের অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পন্ন করতে চান। তবে দুর্নীতির অভিযোগের মুখে তাকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ায় তার মেয়াদ আকস্মিকভাবে শেষ হয়ে যায়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন