প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সন্তানের জন্য ওষুধ দেওয়া নিয়ে বিবাদ, যার ফলে দিল্লিতে সফটওয়্যার প্রকৌশলী বিনয় গুপ্তাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্ত্রীর এবং শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে।
সন্তানের ওষুধ দেওয়া নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ব্যাপক ঝগড়া হয়। এর ফলে, স্ত্রী বাবার বাড়ির সদস্যদের ডাক করে স্বামীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ তৈরি হয়। ভারতের দিল্লির নিহাল বিহার এলাকার নিজ বাড়িতে নিহত হন ৩১ বছর বয়সী সফটওয়্যার প্রকৌশলী বিনয় গুপ্তা।
ভারতের সংবাদমাধ্যম জিনিউজ বাংলায় প্রকাশিত সংবাদে এ ঘটনার বিস্তারিত উঠে এসেছে।
নিহতের স্ত্রী রেখা এবং তার বাবার বাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ গঠন হয়েছে। ইতোমধ্যে এই ঘটনার জন্য পুলিশ বিনয়ের স্ত্রী, তাঁর দুই ভাই এবং এক বউদিকে গ্রেপ্তার করেছে। বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে পুলিশ তল্লাশি চালাচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে রেখার সঙ্গে বিনয়ের বিয়ে হয়েছিল। তাদের চার মাস বয়সী যমজ সন্তান রয়েছে। বিনয় নয়ডার একটি তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলী হিসাবে কর্মরত ছিলেন এবং তার বার্ষিক বেতন ছিল প্রায় ৬০ লাখ টাকা।
পরিবার এবং পুলিশ সূত্রে পাওয়া সংবাদ অনুযায়ী, কিছুদিন ধরেই বিনয় এবং রেখার মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলছিল। শনিবার সকালে একটি সন্তানের ওষুধ দেওয়া নিয়ে তাদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। যখন বিনয় উচ্চ স্বরে কথা বলতে শুরু করেন, তখন রেখা রেগে যান। এরপর তিনি বাবার বাড়িতে ফোন করে ঘর থেকে বেরিয়ে যান।
প্রায় ১০ মিনিট পর, রেখা তার দুই ভাই, এক জামাই, বাবা, কাকা এবং আরও এক আত্মীয় নিয়ে বাড়িতে ফিরেন। অভিযোগ রয়েছে যে ঘরে ঢুকেই তারা বিনয়ের ওপর হামলা করেন।
এই সময় বিনয়ের মা অতিথিদের জন্য জল আনতে গিয়েছিলেন। ফিরে এসে দেখা পান যে, তাঁর ছেলে ঘিরে কয়েকজন মারধর করছে। বাধা দিলে তাকেও সরিয়ে দেওয়া হয় বলে পরিবারের দাবি।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, বিনয়কে শ্বাসরোধ করার পাশাপাশি তার বুকে লাথি ও কিল-ঘুষি মারা হয়। কিছু সময় পর তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে প্রাণনাশক অবস্থায় একটি প্রতিবেশী তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান, কিন্তু চিকিৎসকরা বিনয়কে মৃত ঘোষণা করেন।
পরিবারের দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। হামলার আগে রেখা ঘরের সব নজরদারি ক্যামেরা বন্ধ করে দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে বাড়ির বাইরের নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজে রেখা এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের একটি গাড়িতে করে ওই এলাকায় আসতে দেখা গেছে, পুলিশ তা জানায়।
বিনয় এবং তাঁর স্ত্রী বাড়ির তৃতীয় তলায় বসবাস করতেন। নিচতলায় বিনয়ের মা-বাবা থাকতেন। পরিবারের দাবি, রেখার সঙ্গে বিনয়ের মা'রও প্রায়ই ঝগড়া হতো। এমনকি রেখার এক ভাই ছোটখাটো বিরোধের কারণে বিনয়কে একাধিকবার হত্যার হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ এসেছে।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং খুব শীঘ্রই ফরেনসিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এই ঘটনার পর ইতোমধ্যে বিনয়ের স্ত্রী রেখা, তার দুই ভাই এবং এক বউদিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যান্য অভিযুক্তদের ধরার উদ্দেশ্যে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন