প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিরুদ্ধে একাধিক ‘উসকানিমূলক ও শত্রুতাপূর্ণ’ পদক্ষেপের অভিযোগ তুলে আলজেরিয়া হঠাৎ করে দেশটির সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) আলজেরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা জানায়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক রক্ষা ও টিকিয়ে রাখার জন্য সকল ধরনের কূটনৈতিক পথ নিঃশেষ হয়ে গেছে। আবুধাবির সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যা আর মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। এই সিদ্ধান্তের পরপরই আলজেরিয়ায় নিযুক্ত আমিরাতের রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয় এবং তাঁকে দেশত্যাগের জন্য ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়।
এই ঘোষণার পরপরই, কোনো দেশের নাম উল্লেখ না করে, আমিরাতি প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গরগাশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, "সফল কূটনীতি গড়ে ওঠা উচিত যৌক্তিকতা, সঠিক যোগাযোগ এবং স্বার্থের স্পষ্টতার ওপর ভিত্তি করে; কোনো ইঙ্গিত বা অনুমানের ওপর নির্ভর করে নয়।"
দীর্ঘকাল ধরেই একাধিক আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক ইস্যুতে আলজেরিয়া ও আমিরাতের অবস্থান বিপরীতমুখী। আবুধাবি ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করলেও আলজেরিয়া বরাবরই এর তীব্র বিরোধিতা করে আসছে। পাশাপাশি বিতর্কিত পশ্চিম সাহারা ইস্যুতে আমিরাত মরক্কোকে সমর্থন করছে, যেখানে আলজেরিয়া সমর্থিত 'পলিসারিও ফ্রন্ট' অঞ্চলটির স্বাধীনতার দাবি জানিয়ে আসছে। আফ্রিকার সাহেল অঞ্চলে আমিরাতের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও সামরিক প্রভাব নিয়ে আলজেরিয়ার সীমান্তে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
এর আগে গত বছর আলজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট আবদেলমাজিদ তেবুন ইঙ্গিতপূর্ণভাবে জানিয়েছিলেন, একটি বিশেষ দেশ ছাড়া পারস্য উপসাগরীয় অন্যান্য সব দেশের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। তিনি নাম উল্লেখ না করে আমিরাতের বিরুদ্ধে আলজেরিয়ার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের অভিযোগ তোলেন। এই বৈরী সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আলজেরিয়া আমিরাতের সঙ্গে ২০১৩ সালের একটি বিমান পরিষেবা চুক্তিও বাতিল করে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন