প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির জন্য জাপানের বাজারে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ৩৪ কোটি ৩৬ লাখ ৫০ হাজার ডলারের তৈরি পোশাক জাপানে রপ্তানি করেছে। এই সময়ে দেশের মোট তৈরি পোশাক রপ্তানিতে জাপানের অংশ ৩ দশমিক ২৫ শতাংশে পৌঁছেছে, যা গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে বাংলাদেশের মোট তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে ১ হাজার ৫৮ কোটি ডলারের। এর মধ্যে জাপানের বাজারে রপ্তানি হয়েছে ৩৪৩ দশমিক ৬৫ মিলিয়ন ডলারের পোশাক। সাম্প্রতিক এই চিত্র বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম পোশাক আমদানি বাজার জাপানে বাংলাদেশের রপ্তানি সম্প্রসারণের সম্ভাবনাকে সামনে এনেছে।
বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের (বিএভি) প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন রুবেল মন্তব্য করেন, "জাপানের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি বাড়ানোর যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।" তিনি আরও জানান, "দেশটির বড় আমদানি বাজার এবং সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের রপ্তানিতে জাপানের অংশ বৃদ্ধি এ সম্ভাবনাকে আরও স্পষ্ট করেছে।"
তিনি উল্লেখ করেন, এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বাজার বৈচিত্র্য বৃদ্ধি পাবে এবং প্রচলিত বাজারগুলোর ওপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।
গত কয়েক বছরে জাপানে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে ওঠানামা লক্ষ্য করা গেছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে দেশটিতে ১১৫ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা ৫ দশমিক ৮ শতাংশ কমে ১০৯ কোটি ডলারে নেমে আসে। পরবর্তী অর্থবছরে রপ্তানি ৯ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ১১৯ কোটি ডলারে পৌঁছায়। তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রপ্তানি আবার ৪ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ১১৩ কোটি ডলারে দাঁড়ায়।
গত অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট তৈরি পোশাক রপ্তানি কমেছে। ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতের রপ্তানি আগের অর্থবছরের তুলনায় ১ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ৩ হাজার ৮৭০ কোটি ডলারে দাঁড়ায়। ফলে মোট তৈরি পোশাক রপ্তানিতে জাপানের অংশ ২ দশমিক ৯৩ শতাংশে নেমে আসে। তবে চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে জাপানের অংশ বৃদ্ধি দেশের বাজারে রপ্তানি সম্প্রসারণের নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
জাপানের পোশাক আমদানির পরিসংখ্যানও বাজারটির ব্যাপকতা স্পষ্ট করে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কেন্দ্রের (আইটিসি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের জুলাই থেকে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত জাপান ২ হাজার ৪৯৬ কোটি ডলারের পোশাক আমদানি করে। পরবর্তী ১২ মাসে আমদানি ৭ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ২ হাজার ৩১৪ কোটি ডলারে দাঁড়ায়। এরপর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আমদানি ৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ৩৯০ কোটি ডলারে পৌঁছায়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা আরও ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ৪১৯ কোটি ডলারে দাঁড়ায়।
চলতি বছরের জুলাই-আগস্টে জাপান ৪০৫ কোটি ডলারের পোশাক আমদানি করেছে। বিশাল এই আমদানির বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বৃদ্ধি পেলে তৈরি পোশাক খাতের প্রবৃদ্ধি ও বাজার বৈচিত্র্য উভয় ক্ষেত্রেই ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সুযোগ রয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে জাপানের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানির অংশ বৃদ্ধি সেই সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করেছে। সূত্র: বাসস
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন