প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বর্তমানে ভারতে দুই দিনের সফরে রয়েছেন। এই সফরের অন্যতম প্রধান গন্তব্য গুজরাটের জামনগরে অবস্থিত রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের তেল শোধনাগার, যা বিশ্বের বৃহত্তম একক তেল শোধনাগার কমপ্লেক্স হিসেবে পরিচিত। বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রুবিওর সফরটি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
কেন এই সফর?
গুজরাটের জামনগরে অবস্থিত এই শোধনাগার প্রতিদিন প্রায় ১৪ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করে। এটি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দু। মার্কিন প্রশাসন রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল আমদানির বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছে, সেইসাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে জ্বালানি ও ডিজেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে হোয়াইট হাউস প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই জটিল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে রিলায়েন্সের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
রাশিয়ার তেল ও মার্কিন কূটনৈতিক চাপ:
ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ভারত রাশিয়া থেকে তেল আমদানির ক্ষেত্রে চীনকে ছাড়িয়ে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রেতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এই আমদানির একটি বড় অংশ রিলায়েন্সের মাধ্যমে হয়ে থাকে। ওয়াশিংটন যখন রুশ তেল আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক আরোপ করেছে, তখন রুবিও ভারতের বিকল্প জ্বালানি পোর্টফোলিও এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল নিয়ে আলোচনা করছেন। তবে তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন যে, একদিনে হঠাৎ করে রাশিয়া থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া কঠিন, তবে ভারত তাদের আমদানির ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করছে।
যুক্তরাষ্ট্রে রিলায়েন্সের বড় বিনিয়োগ:
এই কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে ভারতের শীর্ষ ধনী এবং রিলায়েন্সের প্রধান মুকেশ আম্বানি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বড় ধরনের বিনিয়োগ শুরু করেছেন। টেক্সাসের ব্রাউনসভিল বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন নতুন শোধনাগার প্রকল্পে রিলায়েন্স যুক্ত রয়েছে, যা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন কর্তৃক প্রশংসিত হয়েছে। এছাড়া মাস্কের স্টার্লিং কোম্পানির সাথে ভারতীয় টেলিকম বাজারে রিলায়েন্স জিও-র প্রতিযোগিতা এই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের আরেকটি আলোচিত অধ্যায়।
সবমিলিয়ে, ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লির মধ্যে কিছু মতপার্থক্য ও বাণিজ্য চুক্তি সংক্রান্ত টানাপোড়েন থাকা সত্ত্বেও, বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা ও ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় জামনগরের এই শোধনাগারটি এখন মার্কিন কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সূত্র: আল জাজিরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন