প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের এক বিচারক সাত বছর বয়সী ধর্ষণের শিকার শিশুটির সাহসিকতার জন্য প্রশংসা করেছেন। আবেগঘন চিঠিতে বিচারক তার নির্যাতনকারীকে আমৃত্যু কারাগারে থাকার নিশ্চয়তা দিয়েছেন। এই চিঠিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হচ্ছে।
বিবিসি সূত্রে জানা যায়, বিচারক রজনী রাঙ্গা তার চিঠিতে শিশুটিকে ‘এই আদালত দেখা সবচেয়ে সাহসী ছোট্ট মেয়ে’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ২০২৩ সালের ২৩ জুলাই শিশুটির বয়স যখন সাত বছর, তখন সে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়। মামলার রায় ঘোষণার পর আদালত আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করে। রায়ে বলা হয়, তাকে জীবনের বাকি সময় কারাগারে কাটাতে হবে। একই সঙ্গে শিশুটিকে ১০ লাখ ৫০ হাজার রুপি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়।
রায়ের শেষে বিচারক আনুষ্ঠানিক আইনি ভাষা থেকে বেরিয়ে শিশুটিকে উদ্দেশ্য করে লেখেন, “তুমি যখন বলেছিলে, ‘আঙ্কেলকে বৃদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত জেলে রাখা হো’—এই আদালত তোমার কথা শুনেছে এবং তোমার সেই অনুরোধের জবাব দিয়েছে।”
তিনি আরো উল্লেখ করেন, শিশুটি যাকে ‘আঙ্কেল’ বলে ডাকত, সেই ব্যক্তি আর কখনো মুক্তভাবে বের হতে পারবে না। তাকে জীবনের বাকি সময় কারাগারে থাকতে হবে এবং সেখানেই তার বয়স বাড়বে ও মৃত্যু হবে। ফলে সে আর শিশুটির, তার ছোট বোনের কিংবা অন্য কোনো শিশুর ক্ষতি করতে পারবে না।
শিশুটির সাহসের প্রশংসা করে বিচারক বলেন, আদালতে এসে নির্যাতনকারীকে শনাক্ত করা এবং সত্য বলা ছিল অত্যন্ত সাহসিকতার কাজ। তিনি বলেন, শিশুটি চুপ থাকেনি; বরং মাকে বিষয়টি জানিয়েছিল। তার সাহসের কারণেই ওই ব্যক্তি আর কোনো শিশুর ক্ষতি করতে পারবে না।
চিঠির শেষাংশে বিচারক লেখেন, ‘আদালত শিশুটির হারিয়ে যাওয়া শৈশব ফিরিয়ে দিতে পারবে না। তবে এখন তাকে নিজের জীবন উপভোগ করতে, স্কুলে যেতে, বন্ধু তৈরি করতে, হাসতে, খেলতে ও স্বপ্ন দেখতে বলেন। আদালত তার সাহস সবসময় মনে রাখবে।’
বিবিসি জানাচ্ছে, গত ১১ জুলাই দেওয়া রায়ের অংশ ছিল এই চিঠি। সম্প্রতি দিল্লি হাইকোর্টের এক আদেশে বিচারকের চিঠিটি পুনরুৎপাদন করা হলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। হাইকোর্ট আসামির জামিন ও সাজা স্থগিতের আবেদন নাকচ করে দেয়।
আদালত চিঠিটিকে শিশুটির জন্য ‘উৎসাহের বার্তা’ হিসেবে উল্লেখ করে দিল্লি স্টেট লিগ্যাল সার্ভিসেস অথরিটিকে এর একটি কপি ছাপিয়ে ক্ষতিপূরণের অর্থের সঙ্গে শিশুটির কাছে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেন।
চিঠিটি প্রকাশ্যে আসার পর ভারতের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকে এটিকে বিরল ঘটনা ও আশার আলো হিসেবে উল্লেখ করে বিচারকের প্রশংসা করেছেন। একই সঙ্গে সাত বছর বয়সে শিশুটির ওপর সংঘটিত যৌন নির্যাতনের ঘটনায় অনেকে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
ভারতের সরকারি অপরাধ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশটিতে পকসো আইনের আওতায় ৬৯ হাজারের বেশি মামলা নথিভুক্ত হয়।
শিশু অধিকারকর্মীরা বলছেন, সাত বছর বয়সী শিশুটির ঘটনা ব্যতিক্রম নয়। অনেক ক্ষেত্রেই নির্যাতনকারী ভুক্তভোগীর পরিচিত, বিশ্বস্ত ব্যক্তি বা দেখভালের দায়িত্বে থাকা কেউ হওয়ায় বহু ঘটনা কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো হয় না।
রায়ে বিচারক শিশুর ওপর যৌন নির্যাতনের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের বিষয়টিও তুলে ধরেন। অপরাধের ধরন, শিশুটির গভীর ভোগান্তি এবং এর আজীবন প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে আদালতের আদেশটি শিশুটিকে ‘সেরে ওঠা ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সহায়তা করার’ একটি প্রচেষ্টা বলেও উল্লেখ করেন বিচারক।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন