প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
অধ্যুষিত পশ্চিম তীরে একটি সামরিক তল্লাশিচৌকিতে ফিলিস্তিনি বন্দুকধারীদের হামলায় দুই ইসরায়েলি সেনার মৃত্যু ঘটেছে। এই ঘটনার পর ইসরায়েলি বাহিনী সেখানে ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করেছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ওই এলাকার বাসিন্দাদের বাড়িঘর ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য করা হয়েছে এবং বেশ কিছু ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) তথ্য অনুযায়ী, হেবরন শহরে সংঘটিত এই হামলায় আরও তিন সেনা সামান্য আহত হয়েছেন। হামলা চালানো দুই ফিলিস্তিনি বন্দুকধারীও পরে নিহত হন।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের ঘটনার পর এটি প্রথমবারের মতো ইসরায়েলে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনের মাত্র চার দিন আগে এই হামলার ঘটনা ঘটল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জন্য একটি বড় পরীক্ষা। কারণ, তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে শক্ত অবস্থানের নেতা হিসেবে তুলে ধরছেন।
হামলার পরপরই পুরো হেবরন শহর ঘেরাওয়ের ঘোষণা দেয় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। নেতানিয়াহু জানান, তিনি শুক্রবার থেকেই পশ্চিম তীরে সম্পূর্ণ অবরোধ আরোপের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে কয়েক ঘণ্টা পর অবস্থান কিছুটা শিথিল করে তিনি জানান, পুরো পশ্চিম তীর বন্ধ না করে হেবরন ও হালহুল শহর ঘিরে একটি 'বিশেষ নিরাপত্তা বলয়' তৈরির বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এবং অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা আইএসএ এক যৌথ বিবৃতিতে জানায়, হেবরন এলাকায় তারা কয়েক দিনব্যাপী 'সন্ত্রাসবিরোধী' যৌথ অভিযান শুরু করেছে। সন্ত্রাসী অবকাঠামো ও অস্ত্র উদ্ধার এবং সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নির্দিষ্ট এলাকা চিহ্নিত করে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। বাসিন্দারা তিনটি নির্দিষ্ট পথ দিয়ে এলাকা ত্যাগ করতে পারবেন, তবে তাদের নিরাপত্তা তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, এলাকাটিতে অবৈধ এবং নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো ইতোমধ্যে ড্রেজার দিয়ে ভেঙে ফেলা শুরু হয়েছে।
এদিকে, হেবরনের জনবসতি থেকে ফিলিস্তিনিদের এভাবে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার পরিকল্পনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইসরায়েলের মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থা 'বি'তসেলেম'। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ইউলি নোভাক বলেন, 'ইসরায়েল আগে থেকেই তাদের নতুন অপরাধের কথা প্রকাশ্যে ঘোষণা করছে। নেতানিয়াহু এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী কার্টজ হেবরনের একটি ফিলিস্তিনি এলাকা খালি করা এবং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর মনস্থাই প্রকাশ করেছেন।'
শুক্রবার বিকেলের মধ্যেই হেবরনের ফারশ আল-হাওয়া এলাকায় ভবন ভাঙার কাজ শুরু করে দেয় ইসরায়েলি বাহিনী। সিএনএন জানায়, তাদের হাতে আসা একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, এক ইসরায়েলি সেনা একটি আবাসিক ভবনের ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের মাইকে বলছেন, 'আপনাদের এলাকা ছেড়ে যাওয়ার জন্য মাত্র পাঁচ মিনিট সময় দেওয়া হলো।'
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন