প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পিরোজপুর সদর উপজেলার কুমারখালী এলাকায় একটি অভিযানের মধ্যে নিজ ছেলে এবং মেয়েকে শরবতের সাথে বিষ মিশিয়ে খাইয়ে হত্যার চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে এক বাবার বিরুদ্ধে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ১৪ বছর বয়সী ছেলে ইয়াসিন ও ৭ বছর বয়সী মেয়ে ছামিয়াকে উদ্ধার করে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এই ঘটনাটি ঘটে সোমবার (১ জুন) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে।
অভিযুক্ত বাবার নাম সিরাজুল শিকদার (৪০)। তিনি জেলার জিয়ানগর উপজেলার পাড়েরহাট ইউনিয়নের লাহুড়ী গাজীপুর এলাকার বাসিন্দা। শ্বশুরবাড়ি কুমারখালী এলাকায় অবস্থানকালে তিনি নিজ সন্তানদের ওপর এই বিষপ্রয়োগের ঘটনা ঘটান বলে জানা গেছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ভুক্তভোগী ছেলে ইয়াসিন জানায়, "বাবা আমাকে বাজার থেকে চিনি কিনে আনতে বলেন। চিনি এনে দেওয়ার পর তিনি নিজ হাতে শরবত তৈরি করে আমাকে ও আমার বোনকে খাওয়ান। শরবত খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই আমাদের প্রচণ্ড খারাপ লাগতে শুরু করে এবং আমরা অসুস্থ হয়ে পড়ি।"
একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছোট বোন ছামিয়া (৭) বলেছে, "শরবত খাওয়ার পরপরই আমার মাথা ঘুরে যায় এবং আমি মাটিতে পড়ে যাই। শরবতের স্বাদ স্বাভাবিক ছিল না এবং তাতে কিছু মেশানো ছিল বলে আমার ধারণা।"
চিৎকার শুনে প্রথমে এগিয়ে আসেন প্রতিবেশী মো. কামরুল ইসলাম। তিনি জানান, "বাড়ির উঠান থেকে বাচ্চাদের গোঙানি ও চিৎকার শুনে আমি দ্রুত সেখানে ছুটে যাই। গিয়ে দেখি দুই ভাই-বোন তীব্র যন্ত্রণায় ছটফট করছে। এরপর প্রতিবেশীদের সহায়তায় তাদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।"
শিশুদের নানা আব্দুল করিম তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমার নাতি-নাতনিকে তাদের আপন বাবা বিষাক্ত শরবত খাইয়ে মেরে ফেলার চেষ্টা করেছে। তবে কী কারণে একজন বাবা নিজের সন্তানদের সাথে এমন শত্রুতা করল, তা আমাদের মাথায় আসছে না।"
এই নিষ্ঠুর ঘটনার পর অভিযুক্ত সিরাজুল শিকদার পলাতক রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. রাজিব পাইক জানান, শিশুদের শারীরিক অবস্থা ও প্রাথমিক উপসর্গগুলো দেখে বিষক্রিয়ার স্পষ্ট লক্ষণ প্রকাশ পাচ্ছে। তবে তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট আসার পর এ বিষয়ে শতভাগ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পিরোজপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, "ঘটনাটি আমরা জেনেছি এবং পুলিশের একটি দল বিস্তারিত খোঁজখবর নিচ্ছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়ামাত্রই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন