প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মোহাম্মদ সাদিক, ৫৭ বছর বয়সী, আফগানিস্তানের উরুজগান প্রদেশের বাসিন্দা, ৫৮ সন্তানের বাবা। চার স্ত্রীর সঙ্গে বিশাল এই পরিবারের ভরণপোষণ করতে গিয়ে তিনি চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। অর্থের অভাবে কখনো কখনো পরিবারের কিছু শিশু ক্ষুধার্ত অবস্থায় ঘুমাতে যেতে বাধ্য হয়। খবর খামা প্রেস এজেন্সির।
বিবিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সাদিকের জন্য নিজের সব সন্তানের নাম মনে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। খাবার খাওয়ার সময় কখনো কখনো তাকে পরিবারের সদস্যদের গুনে দেখতে হয়। তখন দেখা যায়, কিছু সন্তান বাড়িতে নেই। দীর্ঘ সময় ধরে সাদিক ও তার স্ত্রীরা ১৪ সন্তানেরও মৃত্যু দেখেছেন।
সাদিক একটি গাড়ির শোরুমে কাজ করেন। তার বক্তব্য, একটি গাড়ি বিক্রি হলে তিনি প্রায় এক হাজার আফগানি আয় করেন। এই সামান্য আয়ে এত সদস্যের খাবার, পোশাক ও অন্যান্য প্রয়োজন মেটানো তার জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংসারের খরচ চালাতে তার কয়েকজন সন্তানও কাজ করে। তারা কেউ কেউ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের জন্য কাগজ ও প্লাস্টিক সংগ্রহ করে।
পরিবারে সাধারণত দিনে দুই বেলা খাবার রান্না হয়। রান্নার দায়িত্ব পালন করেন দুই স্ত্রী। শীতকালে পরিবারের সদস্যরা ঘরের ভেতরে একসঙ্গে খাবার খান, আর গ্রীষ্মকালে উঠানে জড়ো হন। ঘুমানোর ব্যবস্থা অপ্রতুল। কখনো ছয়-সাতজনকে একটি পাতলা কম্বল ভাগাভাগি করে ঘুমাতে হয়।
বিবিসির প্রতিবেদনে পরিবারের বসবাসের পরিবেশের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। বাড়ির ঘরগুলোতে প্রচলিত দরজা-জানালা নেই। দরজার পরিবর্তে পাতলা পর্দা ব্যবহার করা হয়। গোসলের স্থানটি কাপড় ও থালাবাসন ধোয়ার কাজে ব্যবহৃত হয় এবং কখনো কখনো শৌচাগার হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।
এত প্রতিকূলতার মধ্যেও সাদিক সন্তানদের স্কুলে পাঠানোর চেষ্টা করছেন। তবে শিক্ষার ব্যয় বহন করা তার পরিবারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সাদিকের বক্তব্য অনুযায়ী, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর অনুসারীর সংখ্যা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে তিনি বড় পরিবার গড়তে চেয়েছিলেন। তবে এত সন্তানের নাম মনে রাখা ও তাদের দেখাশোনা করা যে কতটা কঠিন, সে বিষয়েও তিনি স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।
একবার একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে এক ধর্মীয় নেতার কাছে ভুল করে তিনি এক মেয়ের পরিবর্তে অন্য মেয়ের নাম বলে ফেলেন। প্রায়ই সন্তানদের নাম মনে করতে না পেরে তাদের ‘আমার ছেলে’ বা ‘আমার সন্তান’ বলে ডাকেন।
বিবিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সাদিকের চার স্ত্রী যখন তাকে বিয়ে করেন, তখন তাদের বয়স ছিল ১৩ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে। প্রথম বিয়ের সময় সাদিকের বয়স ছিল ২০ বছর। প্রতিটি বিয়ের আগে কনের বিয়ের মূল্য বা দেনমোহরের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করতে তাকে দীর্ঘ সময় ধরে সঞ্চয় করতে হয়েছে।
সাদিকের পরিবারের পরিস্থিতি বাল্যবিবাহ, অল্প বয়সে গর্ভধারণ এবং বারবার সন্তান জন্মদানের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে নতুন উদ্বেগের বিষয় তুলে ধরেছে। কৈশোরে গর্ভধারণ মায়েদের জন্য বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। ঘন ঘন গর্ভধারণ নারীর শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে। আফগানিস্তানের প্রত্যন্ত এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সীমাবদ্ধতা এসব ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
সাদিক জানান, তিনি পড়তে বা লিখতে পারেন না। পরিবারের সদস্যদের মৌলিক চাহিদা পূরণে সহায়তার জন্য তিনি সরকার, ত্রাণ সংস্থা ও ব্যবসায়ীদের কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন।
তার প্রধান চাওয়া হলো, সন্তানরা যেন শিক্ষার সুযোগ পায় এবং পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের জন্য পর্যাপ্ত খাবারের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়। বিশাল পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকার এই সংগ্রামে তিনি এখন আর্থিক সহায়তাকেই বড় ভরসা হিসেবে দেখছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন