প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইসরায়েলের হামলায় ৮ শতাধিক ফিলিস্তিনি শিক্ষক প্রাণ হারিয়েছেন। একই সময়ে ৩ হাজার ৩০০-এর বেশি শিক্ষক আহত হয়েছেন। এই তথ্যটি ফিলিস্তিনের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে তুর্কি সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে।
বিশ্ব শিক্ষক দিবসের এক দিন আগে, মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, ‘দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে শিক্ষকেরা শিক্ষার অধিকার রক্ষায় বেঁচে থাকার জন্য একটি সত্যিকারের লড়াই করছেন। তাদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হচ্ছে।’
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর গাজা ও পশ্চিম তীরের শিক্ষা খাত ‘ব্যাপক গণহত্যার’ শিকার হয়েছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ফিলিস্তিনের শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, এখনও ১৭০ জনের বেশি শিক্ষক আটক আছেন এবং তাদের ‘কঠোর পরিস্থিতির’ মধ্যে রাখা হয়েছে।
শত শত চেকপয়েন্টে চলাচলে বিধিনিষেধ ও হয়রানি শিক্ষকদের দৈনন্দিন দুর্ভোগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে হেবরনের দক্ষিণে মাসাফের ইয়াত্তা, মধ্য পশ্চিম তীরের আল-মুঘাইয়ির গ্রাম, জর্ডান উপত্যকা এবং এরিয়া সি হিসেবে চিহ্নিত এলাকায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে, এমনটি জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
১৯৯৫ সালের অন্তর্বর্তীকালীন অসলো-২ চুক্তির অধীনে পশ্চিম তীরকে তিনটি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে: এ, বি ও সি। এরিয়া এ’তে বেসামরিক ও নিরাপত্তা ফিলিস্তিনিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এরিয়া বি ফিলিস্তিনি বেসামরিক প্রশাসন এবং ইসরায়েলি নিরাপত্তার আওতায় রয়েছে। আর পশ্চিম তীরের প্রায় ৬০ শতাংশ নিয়ে গঠিত এরিয়া সি পুরোপুরি ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
শিক্ষা খাতে আর্থিক সংকট
ফিলিস্তিনি শিক্ষকদের ওপর নিপীড়নের পাশাপাশি তীব্র আর্থিক সংকট তাদের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে। ইসরায়েল ফিলিস্তিনের করের অর্থ আটকে রাখায় শিক্ষকদের আর্থিক ও মানসিক স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই অর্থ ‘ক্লিয়ারেন্স রেভিনিউ’ নামে পরিচিত। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের হয়ে আমদানি করা পণ্যের ওপর কর সংগ্রহ করে তা ইসরায়েল হস্তান্তর করে। ১৯৯৪ সালের প্যারিস প্রটোকলের অধীনে এ ব্যবস্থা চালু হয়।
২০১৯ সাল থেকে ইসরায়েল এসব রাজস্ব থেকে অর্থ কেটে নেওয়া শুরু করে এবং পরে অর্থ হস্তান্তর বন্ধ করে দেয়। এর ফলে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের আর্থিক সংকট আরও বেড়ে যায় এবং সরকারি কর্মীদের পুরো বেতন দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। ফিলিস্তিনের মোট সরকারি রাজস্বের প্রায় ৫৬ শতাংশই এই ক্লিয়ারেন্স রেভিনিউ থেকে আসে। ফলে এসব অর্থ আটকে রাখা সরকারি কর্মীদের বেতন প্রদান, জনসেবা চালানো এবং সরকারের বিভিন্ন দায়িত্ব পালনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ফিলিস্তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষার্থী ও শিক্ষা খাতের কর্মীদের বিরুদ্ধে এসব লঙ্ঘন বন্ধে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, জাতিসংঘ এবং শিক্ষা ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। এছাড়া, আটক শিক্ষকদের মুক্তি এবং আটকে থাকা আর্থিক পাওনা পরিশোধের জন্য বিশ্বজুড়ে শিক্ষক ও কর্মীদের সংগঠনগুলোর প্রতি চাপ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে শিক্ষকরা মর্যাদার সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন