প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সুনামগঞ্জে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) সুনামগঞ্জ সার্কেল ও নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) সুনামগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ, ট্রাফিক আইন মেনে চলা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা। আলোচনা সভা শেষে চারজন শ্রেষ্ঠ চালককে সনদপত্র ও ক্রেস্ট দিয়ে সম্মাননা জানানো হয়।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ১০টায় বিআরটিএ সুনামগঞ্জ সার্কেল ও নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) সুনামগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে একটি র্যালি বের করা হয়। র্যালিতে নিসচা নেতৃবৃন্দ, পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং বিআরটিএ সুনামগঞ্জ কার্যালয়ের মোটরযান পরিদর্শক মোহাম্মদ হাসিব ইসলাম হিমেলের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুনজিত কুমার চন্দ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন সরকার এবং সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. রনবীর তালুকদার রক্তিম।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ ও নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। চালকদের ট্রাফিক আইন মেনে চলা, নির্ধারিত গতিসীমা অনুসরণ এবং গাড়ি চালানোর সময় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। একই সঙ্গে যাত্রী ও পথচারীদেরও সড়ক ব্যবহারের নিয়ম মেনে চলতে হবে। সম্মিলিত সচেতনতা, আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনা সম্ভব। নিরাপদ সড়ক গড়ে তুলতে প্রশাসনের পাশাপাশি পরিবহন মালিক-শ্রমিক, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষকে একযোগে কাজ করতে হবে।
আলোচনা সভায় নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সহসভাপতি ওবায়দুল হক মিলন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ নূর বক্তব্য দেন। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন নিসচা সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সিনিয়র সহসভাপতি আফতাব উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক আবু হানিফ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফুয়াদ মনি এবং প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এম আর সজীব সহ আরও অন্যান্যরা।
সভায় আরও বক্তব্য দেন বাস, মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতির জেলা সাধারণ সম্পাদক জুয়েল মিয়া, জেলা বাস-মিনিবাস-কোচ-মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সুজাউল কবির ও সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হামিদ, সাংবাদিক মুহাম্মদ আমিনুল হক, ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের জেলা সভাপতি ফয়জুনূর এবং হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের সভাপতি রাজু আহমেদ।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে শুধু চালকদের সচেতনতা যথেষ্ট নয়; যাত্রী, পথচারী, পরিবহন মালিক-শ্রমিক এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। ট্রাফিক আইন মেনে চলা, নির্ধারিত গতিসীমা অনুসরণ, সতর্কতার সঙ্গে গাড়ি চালানো এবং সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখার মাধ্যমে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
বক্তারা আরও বলেন, মাদকাসক্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো সড়ক নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি। চালকের সামান্য অসতর্কতা কিংবা দায়িত্বহীনতায় প্রাণহানিসহ বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই চালকদের মাদক থেকে দূরে থাকা, গাড়ি চালানোর সময় সম্পূর্ণ মনোযোগী থাকা এবং পেশাগত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চালকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি এবং দুর্ঘটনার কারণ চিহ্নিত করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদারের আহ্বান জানান বক্তারা। তাঁদের মতে, দুর্ঘটনা ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনা এড়াতে আগাম উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে সরকারি সংস্থার পাশাপাশি নিরাপদ সড়ক চাইয়ের মতো সামাজিক সংগঠন, পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
আলোচনা সভা শেষে চারজন শ্রেষ্ঠ চালককে সনদপত্র ও ক্রেস্ট দিয়ে সম্মাননা জানানো হয়। এ ধরনের সম্মাননা চালকদের পেশাগত দায়িত্বশীলতা, দক্ষতা ও নিরাপদে যানবাহন পরিচালনায় উৎসাহিত করবে বলে আশা প্রকাশ করেন বক্তারা।
জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসের এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে সুনামগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ, নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা এবং সড়ক ব্যবহারকারীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন