প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়াতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক হামলার কারণে ইরানের ওপর মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে নতুন আকার নিয়েছে। এই জটিলতার ফলে হরমুজ প্রণালি প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি আরেকটি জলপথ বাব আল-মান্দেব বন্ধ করারও হুমকি দিয়েছে হুতি বিদ্রোহীরা।
এ পরিস্থিতিতে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়ার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম টানা বৃদ্ধি পাচ্ছে। দাম চতুর্থ দিনের মতো বেড়ে প্রতি ব্যারেল তেল ৯৫ ডলার পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। গত ছয় সপ্তাহের মধ্যে এটি সর্বোচ্চ মূল্য। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে, যুদ্ধ এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনায় জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা বাড়ছে।
বাজারসংক্রান্ত প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং ইকোনমিকস জানাচ্ছে, গতকাল বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ৩.৫৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৮৭.৩৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একইসাথে ব্রেন্ট অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ৩.৪৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯৪.৪৭ ডলারে উঠেছে। গত মঙ্গলবার জ্বালানি তেলের দাম ২ শতাংশ বেড়েছিল এবং এক সপ্তাহে দাম বেড়েছে ১১ শতাংশ।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক বাহিনী টানা ১১তম দিনেও ইরানের বিরুদ্ধে হামলা অব্যাহত রেখেছে। তাদের বক্তব্য, এই হামলার উদ্দেশ্য হচ্ছে তেহরানের সেই সক্ষমতা দুর্বল করা, যার মাধ্যমে তারা হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে হুমকি সৃষ্টি করতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে অদূর ভবিষ্যতে কোন আলোচনার সুযোগ নেই। তিনি সামরিক অভিযান আরও বিস্তৃত করারও সতর্কবার্তা দেন, যেখানে পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে অবস্থিত সন্দেহভাজন পারমাণবিক স্থাপনায় সম্ভাব্য হামলার কথাও উল্লেখ করেন। একইসাথে ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা যদি লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে, তাহলে তার কঠোর জবাব দেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দেন।
তেলের বাজার নিয়ে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের জে হ্যাটফিল্ড বলেন, ‘আমাদের ধারণা, খবরের প্রবাহ এবং পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ৮০ থেকে ৯০ ডলারের মধ্যে ওঠানামা করবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘যদি সত্যিই লোহিত সাগর দিয়ে জাহাজ চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে সেটি বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করবে। আমরা এখনো এমন পরিস্থিতি দেখিনি। তবে যদি তা ঘটে, তাহলে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারের ওপরে চলে যেতে পারে।’
এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে থেকেও সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। রাশিয়ার কৃষ্ণ সাগর উপকূলে অবস্থিত কাস্পিয়ান পাইপলাইন কনসোর্টিয়াম টার্মিনালে নতুন করে হামলাও সংঘটিত হয়েছে। এটি কাজাখস্তানের অপরিশোধিত তেল রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ রুটের মধ্যে একটি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন