প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ইউনাইটেড নেশনস প্লাজায় পেইড পিরিয়ড লিভ বিষয়ক গ্লোবাল সামিট অনুষ্ঠিত হয়েছে। মাসিক স্বাস্থ্য, বেতনসহ মাসিককালীন ছুটি এবং কর্মক্ষেত্রে নারীর সমতা নিয়ে আলোচনা করার জন্য বিভিন্ন দেশের অধিকারকর্মী, শিক্ষাবিদ, আইনজীবী, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও সামাজিক উন্নয়ন বিশেষজ্ঞরা এতে অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানটির আয়োজক ছিল RISE। প্রদীপ নায়ক পরিচালিত প্রামাণ্যচিত্র Paid Period Leave এখানে প্রদর্শিত হয়। মাসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সামাজিক কুসংস্কার দূর করা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিশ্বব্যাপী বেতনসহ মাসিককালীন ছুটি চালুর গুরুত্ব তুলে ধরার উদ্দেশ্যেই এই আয়োজনটি করা হয়েছিল।
সামিটে সাংবাদিক মাইনুল ইসলামকে পেইড পিরিয়ড লিভ বা বেতনসহ মাসিককালীন ছুটি সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরিতে অবদানের জন্য সম্মাননা সনদ প্রদান করা হয়। তিনি চ্যানেল আইয়ের বিশেষ প্রতিনিধি ও সংবাদ উপস্থাপক এবং BanglaHour.com-এর নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
পেইড পিরিয়ড লিভ উদ্যোগের প্রতিষ্ঠাতা ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অধিকারকর্মী রঞ্জিতা প্রিয়দর্শিনী অনুষ্ঠানে মাসিক স্বাস্থ্যকে নারীর সুস্থতা, মর্যাদা ও কর্মক্ষেত্রে সমতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, "বাংলাদেশ সরকার বেতনসহ মাসিককালীন ছুটি চালুর উদ্যোগ নিলে তা নারীর স্বাস্থ্যগত প্রয়োজন ও কর্মক্ষেত্রে মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।"
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন UNESCO Center for Peace-এর উপপরিচালক এমেট ইমানি, Coalition for the UN We Need-এর নির্বাহী পরিচালক অ্যাডাম লুপেল এবং সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কের সহযোগী অধ্যাপক আনা কাপলান। আলোচনায় বিশ্বব্যাপী পেইড পিরিয়ড লিভ চালুর প্রয়োজনীয়তা এবং তা বাস্তবায়নের সম্ভাব্য উপায় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সামিটের বিশেষ অধিবেশন Advancing Paid Period Leave Through Storytelling and Policy Reform -এ চলচ্চিত্র, সৃজনশীল যোগাযোগ ও আইনি কাঠামোর মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নীতিগত সংস্কারের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। এতে অংশগ্রহণ করেন চলচ্চিত্র নির্মাতা সানিয়া পান্ডা ও দামিলোলা আদেয়েরি, অ্যাটর্নি ফারহান আরিয়ান এবং পরিচালক, প্রযোজক ও সংগীতশিল্পী আর্তুরো দে লাস ফুয়েন্তেস। আলোচনায় চলচ্চিত্র ও গল্প বলার মাধ্যমে সামাজিক ভুল ধারণা দূর করার পাশাপাশি নারীদের অধিকার সুরক্ষায় আইন ও কর্মক্ষেত্রের নীতিমালা কার্যকর করার বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
সম্মাননা গ্রহণের পর মাইনুল ইসলাম কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি এই স্বীকৃতিকে নিজের পেশাগত জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, "সামাজিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো মানুষের সামনে তুলে ধরা, জনসচেতনতা তৈরি এবং গঠনমূলক আলোচনা এগিয়ে নিতে সাংবাদিকতার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।"
সামিটে বক্তারা মাসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বেতনসহ মাসিককালীন ছুটি বাস্তবায়নের সম্ভাব্য পথ খুঁজে বের করতে সাংবাদিক, অধিকারকর্মী, আইনজীবী, শিক্ষাবিদ, নিয়োগকর্তা ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন